ভারত-চীন সীমান্তের কাছে রাজনাথ সিংয়ের অস্ত্রপুজা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ভারত-চীন সীমান্তের কাছে রাজনাথ সিংয়ের অস্ত্রপুজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৫ ২৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৭ ২৬ অক্টোবর ২০২০

ছবি: রাজনাথ সিং

ছবি: রাজনাথ সিং

চীন নিয়ে ফের উত্তাপ ছড়ালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দুই দেশের ভেতর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সিকিমে চীন সীমান্তের কাছে অস্ত্রপুজা করে এসেছেন তিনি।

রোববার বিজয়া দশমী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের সেনা ঘাঁটি সুকনায় গিয়েছিলেন রাজনাথ। সেখানে নিয়মমাফিক অস্ত্রের পুজা করে তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত।

চীন সীমান্তের এত কাছে গিয়ে অস্ত্রপুজা নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পুজা শেষে এক বক্তৃতায় রাজনাথ বলেন, ‘ভারত শান্তির পক্ষে। কিন্তু চীন যে ভাবে আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে, তার যোগ্য জবাব দিচ্ছেন ভারতীয় জওয়ানরা।’

রাজনাথের বক্তব্য, ভারত এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। চীনকে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকতে দেয়নি দেশের সেনা। মাসখানেক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই কথা বলেছিলেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন হয়েছিল। বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, চীন ভারতের সীমান্তে ঢুকে না পড়লে লাদাখে সংঘাত শুরু হয়েছে কেন?

বস্তুত সেই সুরই শোনা গিয়েছে বিজেপির উৎস আরএসএস-এর প্রধানের মুখেও। মোহন ভগবত রোববার বক্তৃতায় বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী চীন ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে। ভারত তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।

এদিকে মোহন ভগবতের বক্তৃতার পরেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে জানান, এত দিনে সত্য সামনে এলো। চীন যে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে, তা স্পষ্ট হলো।

লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত। এখনো দুই দেশের সেনা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ভারতীয় সেনার সাবেক লেফটন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘সীমান্তের উত্তেজনা এতটুকু কমেনি বরং বেড়েছে। দুই দেশই সমস্ত আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে নিয়ে গিয়ে রেখেছে।’

ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে পূর্ব লাদাখে ভারত এবং চীনের ট্যাঙ্কের মধ্যবর্তী দূরত্ব মাত্র চারশ মিটার। যা নজিরবিহীন। সেনাস্তরের একাধিক বৈঠকেও কোনো সমাধান মেলেনি। অরুণাচল এবং সিকিম সীমান্তেও রেড অ্যালার্ট রয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার ভারতে এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। রাজনাথ সিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারা চীন নিয়ে বৈঠক করবেন। বস্তুত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত একটি ব্লক তৈরি করে চীনের বিরুদ্ধে জোড়ালো প্রতিরোধ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনও প্রথম থেকেই তার বিরোধিতা করে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে কারণ, সম্প্রতি চীন জানিয়েছে ভারতের অরুণাচল এবং লাদাখ কোনো অংশকেই তারা স্বীকৃতি দেয় না। ভারত এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের সেনাকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, মার্কিন মন্ত্রীদের সফরের পরে ভারত-চীন সীমান্তে সংঘাতের আবহাওয়া আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে উৎপল ভট্টাচার্যের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্তে আলাদা কোনো প্রভাব পড়বে না। পরিস্থিতি যেমন আছে, তেমনই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি, ডয়চে ভেলে

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী