পরমাণু অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চুক্তি কি আসলেই নতুন অধ্যায়ের শুরু!

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

পরমাণু অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চুক্তি কি আসলেই নতুন অধ্যায়ের শুরু!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৭ ২৬ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চুক্তিতে পঞ্চাশতম দেশ হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে হন্ডুরাস। এর ফলে আগামী ৯০দিন পর এই চুক্তি কার্যকর হবে। পরমাণু অস্ত্র বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারীরা জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছে। এটিকে একটি নতুন অধ্যায় বলেও স্বাগত জানিয়েছে তারা।

এদিকে, বিশ্বের পাঁচ শক্তিধর ও স্বীকৃত পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশ এই চুক্তিতে এখনও স্বাক্ষর না করায় জাতিসংঘের এই চুক্তি বাস্তবায়নে আসলে কি অর্জন করবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও সমর্থকরা আশা করছেন যে, একটি প্রতিরোধী ব্যবস্থা হিসেবে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

পরমাণু চুক্তিতে যা আছে:

বিশ্বের ১২২টি দেশ ২০১৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই চুক্তি অনুমোদন করেছিলো। কিন্তু এটি আইন হিসেবে কার্যকর করতে অন্তত ৫০টি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিলো। এই চুক্তিতে যেসব দেশ স্বাক্ষর করেছে তারা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে, তারা কখনোই কোন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য পারমাণবিক বিস্ফোরক সরঞ্জাম তৈরি, পরীক্ষা, উৎপাদন, ক্রয় বা সংগ্রহ করবে না। তারা নিজেরা এ ধরনের অস্ত্রের মালিক হবে না এবং তা মজুতও করবে না।

এই চুক্তির আওতায়, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বা অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তারা তাদের ভূখন্ডে কোথাও কোনো পারমাণবিক স্থাপনা বা কেন্দ্র বসাতে অথবা কোনরকম পরমাণু অস্ত্র বা পারমাণবিক বিস্ফোরক সরঞ্জাম মোতায়েন করতে পারবে না।

পরমাণু চুক্তির প্রতিক্রিয়া:

পারমাণবিক অস্ত্র বন্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আন্দোলন সংস্থা আইক্যান ৫০তম দেশের এই চুক্তি চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের পথে এটি একটা নতুন অধ্যায় হতে চলেছে। আইক্যানের প্রধান বিয়াট্রিম ফিন ২০১৭ সালে আইক্যানের পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি বলেন , কয়েক দশক ধরে চলা আন্দোলনের ফসল এই চুক্তি। অনেকে বলেছিলেন পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ অসম্ভব। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে সেটি অর্জিত হয়েছে।

রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রেসিডেন্ট পিটার মরিয়ার বলেছেন, এই চুক্তি মানবিকতার বিজয়। একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি এটি।

এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপ সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত হওয়ার পথে একটি অর্থবহ অঙ্গীকার। বিশ্বকে অস্ত্র-মুক্ত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অগ্রাধিকারের তালিকায় একেবারে শীর্ষে রয়েছে এটি।

বিশ্বের পাঁচটি প্রধান পরমাণু শক্তিধর দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এই ব্যাপারে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই চুক্তির ব্যাপারে তাদের বিরোধিতা স্পষ্ট করে দিয়েছিলো।

যুক্তরাজ্য সেসময়ে বলেছিলো, দেশটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত পৃথিবীর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মনে করে না যে এই চুক্তি বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে পারবে। বরং তারা মনে করে এই চুক্তি বর্তমান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের চুক্তির (নিউক্লিয়ার নন প্রলিফারেশন ট্রিটি) মতো প্রয়াসের গুরুত্বকে কমিয়ে দেবে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিঠি দেখেছে। ওই চিঠিটি দেখা গেছে, এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীদের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই চুক্তির ফলে পরমাণু অস্ত্র যাচাই ও পরমাণু অস্ত্র-বিস্তার রোধ চুক্তির প্রক্রিয়া উল্টোমুখে হাঁটবে তারা।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ