ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা, বিভিন্ন দেশে ফের বিধিনিষেধ জারি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা, বিভিন্ন দেশে ফের বিধিনিষেধ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ২৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:৪৯ ২৬ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় ফের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সংক্রমণ ঠেকাতে ফের কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। আবারো নতুন করে জারি করা হচ্ছে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও জরুরি অবস্থা।

এরইমধ্যে ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ফ্রান্সে করোনার সংক্রমণের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এ অবস্থায় করোনা মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্পেন। রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘোষণা দিয়েছেন। জরুরি অবস্থার পাশাপাশি স্পেনে রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতেই প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এমনকি সে সময় করোনার হানায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলো ইতালি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। দুই মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউন জারি করে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং লোকজনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়। ফলে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ আবারো বাড়তে শুরু করেছে। তাই গত রোববার ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে করোনার নতুন বিধিমালা ঘোষণা করেছেন।

অক্টোবর মাসে ইউরোপের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা করোনায় আক্রান্ত দেশসমূহের তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমণকে ছাড়িয়ে গেছে। মহামারি এই ভাইরাস আরো তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষস্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ কঠোর করে এই ভাইরাসকে আবারো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে আশা করেছেন ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকাররা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি নাটকীয় বিপর্যয় শুরু হয়েছে ইউরোপে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ইউরোপের কঠোর জয়ের কৃতিত্বকে হ্রাস করেছে নতুন করে বাড়তে থাকা এই সংক্রমণ। এই গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপে করোনার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম ছিলো। তবে করোনার কারণে দেয়া বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব, ভ্রমণ এসবকিছু শিথিল করার ফলে আবারো সংক্রমণ বেড়েছে সেখানে।

চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে ইউরোপের অনেক দেশই ভেবেছিলো যে, তাদের জীবন-যাত্রা হয়তো আবারো স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাবে। কিন্তু সেটি না হয়ে ইউরোপজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। অনেক দেশেই করোনা সংক্রমণ আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

কারফিউ থেকে শুরু করে স্থানীয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ জারি করা হলে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান এই সংক্রমণকে ধীর করতে পারে। আর এভাবে না চললে বিপর্যয় ঘটতে পারে সেখানে।

ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশে পরিণত হয়েছে ফ্রান্স। শুধুমাত্র গত সপ্তাহেই সেখানে দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় এবার মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের প্রায় অর্ধেক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট এখন কোভিড -১৯ রোগীদের দখলে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকাররা ক্রমবর্ধমান এই সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আশা হারিয়ে ফেলেছে। তবে করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত এই সংক্রমণকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তারা।'

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আবারো নতুন করে লকডাউন আরোপ করেছে আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলস। ব্রিটেনের ওয়েলসে দুই সপ্তাহের জন্য ‘ফায়ারব্রেক’ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড বুধবার মধ্যরাত থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য নতুন করে জারি করা লকডাউন কার্যকর করেছে। এর ফলে অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। ঘরে-বাইরে মানুষের মেলেমেশাও সীমিত রাখতে হবে।

নেদারল্যান্ডেও সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তাই চলতি সপ্তাহে দেশজুড়ে চার সপ্তাহের জন্য রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে দেশটিতে।

ইউরোপের অন্যান্য অনেক দেশও করোনা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সোমবার থেকে এক মাসের জন্য বার ও রেস্তোরা বন্ধ করে দিয়েছে বেলজিয়াম। গত সপ্তাহে দেশটিতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পোল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক অংশ ‘রেড জোন’ হয়ে ওঠায় রাজধানী ওয়ারশের জাতীয় স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। গত সপ্তাহান্ত থেকে প্যারিসসহ ফ্রান্সের নয়টি শহরে সারারাত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সূত্র- দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ