চীন নিয়ে আলোচনা করতে ভারত সফরে যাচ্ছেন মাইক পম্পেও

ঢাকা, রোববার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৭,   ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

চীন নিয়ে আলোচনা করতে ভারত সফরে যাচ্ছেন মাইক পম্পেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৬ ২১ অক্টোবর ২০২০  

মাইক পম্পেও

মাইক পম্পেও

চীনের বিরুদ্ধে কৌশলনীতি সাজাতে ভারত সফরে যাবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এই সফরে তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এস্পারও যাবেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এস্পার জানান, আগামী সপ্তাহে পম্পেওর সঙ্গে ভারত সফরে যাবেন তিনি। এই সফরে চীনের সঙ্গে ভারতের চলমান সংঘাত, এশিয়া প্যাসিফিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ শক্তিবৃদ্ধির বিষয়ে ভারতীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে গত এপ্রিল থেকে লাদাখে ভারতের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দেশই নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি হয়নি বরং বিতর্ক আরো বেড়েছে। চীন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশকে তারা ভারতের অংশ বলেই মনে করে না। এছাড়া কাশ্মীর প্রসঙ্গে চীন ও পাকিস্তান একজোট হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বরাবরই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। লাদাখ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিতভাবে ভারতকে সমর্থন করেছে। তবে মঙ্গলবার এস্পারের দেয়া বিবৃতি নজিরবিহীন। তিনি বলেন, চীনের কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করবে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের শক্তি কিভাবে ক্ষয় করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে। অর্থাৎ, চীন নিয়ে আলোচনা করতেই পম্পেও এবং এস্পার ভারতে সফর করছেন বিবৃতিতে তা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

এস্পার জানান, উপমহাদেশ ও এশিয়া প্যাসিফিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে কৌশলগত বন্ধু। দুই দেশ সামরিক স্তরে অনেক কিছু বিনিময়ও করে। ভারতীয় প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, এবার পম্পেও এবং এস্পারের সঙ্গে বৈঠকের পর ইনটেলিজেন্স শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা হতে পারে। অর্থাৎ, ভারতীয় গোয়েন্দারা মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করবে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, চীন সম্পর্কিত তথ্যের জন্যই দ্রুত এই ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়াও সামরিক পোশাক ও সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি রয়েছে। লাদাখ সংঘাতের জন্য এক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ ধরনের শীতের সরঞ্জাম আনিয়েছিলো ভারত।

এদিকে, সম্প্রতি জাপানে চীন নিয়েই বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া আগামী নভেম্বরে মালাবার উপকূলে যৌথভাবে নৌ মহড়া করবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ও লাদাখে চীনের উপর যৌথভাবে চাপ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে হংকং ও তাইওয়ান নিয়েও চীনের উপর ক্রমশ চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

সূত্র- ডয়চে ভেলে

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ