বেতনে সংসার চলে না, পদত্যাগ করতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

বেতনে সংসার চলে না, পদত্যাগ করতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ২০ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বেতন কম?‌ এ কারণে অনেকেই এক সংস্থার চাকরি ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দেন। তবে এ কারণে কেউ যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কথা বলেন!‌ শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। এমনই অবাক করা ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

বেতন খুব অল্প। যে টাকা পান, প্রধানমন্ত্রী না থাকলে তার থেকে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতেন। এত কম টাকায় সংসার খরচ চালাতে পারছেন না। সম্প্রতি ঘনিষ্ঠমহলে এমনই নাকি বলেছেন জনসন। তারপরই জানিয়েছেন ইস্তফা দেয়ার ব্যাপারেও নাকি ভাবনাচিন্তা করছেন।

জনসনের দলের এক এমপি’‌কে উদ্ধৃতি করে আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চান না জনসন। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৫০ হাজার ৪০২ পাউন্ড। অথচ গত বছর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় কলাম লিখতেন। সেমিনারে বক্তব্য রাখতেন।

এসব করে তিনি মাসে আয় করতেন ২৩ হাজার পাউন্ড। এমনকি এক মাসে তিনি দুটি সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে আয় করেছিলেন এক লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড। অথচ এর আগে একটি পত্রিকায় কলাম লিখেই তিনি বছরে আয় করতেন ২ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড।

হোয়াইটহলের সূত্রগুলো মিডিয়াকে বলেছে, আগামী বসন্তে পদত্যাগ করতে চান বরিস জনসন। এ জন্য তিনি আর ৬ মাস ক্ষমতায় থাকবেন, যাতে ব্রেক্সিট পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেন।

একজন এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে তার ৬ সন্তানকে বছরে খরচ হিসেবে দিতে হয় ৪২ হাজার ৫০০ পাউন্ড। এই খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন জনসন। ওই এমপি আরো বলেছেন, বরিস জনসনের ৬টি সন্তানের মধ্যে কয়েকজন একেবারে ছোট। তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিতে হয়। অন্যদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তি অনুযায়ী সাবেক স্ত্রী মেরিনা হুইলারকে একটা বড় অংকের অর্থ দিতে হয়। তবে বরিস জনসন দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন বলে দাবি করেছেন আরেকজন এমপি। বরিস জনসন সম্পর্কে এসব কথা বলা হলেও মেট্রোর কাছে এসব কথা প্রত্যাখ্যান করেছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। তবে তারা আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তারা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে এবং নানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রচুর অর্থ কামাই করতে পারেন। এমপিরা মনে করেন, জনসন তার পূর্বসূরিদের এমন উপার্জন দেশে নিজে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে গত বছর পদত্যাগ করার পর বক্তব্য বা লেকচার দিয়ে উপার্জন করছেন ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি। প্রতিটি লেকচারের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নিচ্ছেন এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ড। অন্যদিকে কনসালট্যান্সি কর্মকান্ড এবং বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে সাবেক আরেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের মালিক।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ