মিয়ানমারকে ৩২ বছরের পুরোনো সাবমেরিন দিল ভারত

ঢাকা, রোববার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৭,   ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

মিয়ানমারকে ৩২ বছরের পুরোনো সাবমেরিন দিল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৮ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৩২ ১৭ অক্টোবর ২০২০

ছবি: আইএনএস সিন্ধুবীর

ছবি: আইএনএস সিন্ধুবীর

মিয়ানমারকে সামরিক খাতে সহায়তার অংশ হিসেবে একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন দিচ্ছে ভারত। সাবমেরিনটির নাম ‘আইএনএস সিন্ধুবীর’। মিয়ানমার নৌবাহিনীর এটিই হবে প্রথম সাবমেরিন।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সংক্রান্ত সহযোগিতা আমাদের বৈচিত্র্যময় সম্পর্কের একটি অংশ। এরই প্রেক্ষিতে ভারত মিয়ানমারের নৌবাহিনীকে কিলো ক্লাস সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুবীর দেবে।’

সূত্রের তথ্যানুযায়ী, আগামী মার্চ মাসেই মিয়ানমারের কাছে এটি হস্তান্তর করতে যাচ্ছে ভারত।

এতদিন মিয়ানমারের কোনো সাবমেরিন ছিল না। এবার সেটি যোগ হতে যাওয়ায় মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নভরানে দুই দিনের সফরে মিয়ানমার গিয়েছিলেন। দ্বিপক্ষীয় বহুমুখী সহযোগিতা নিয়ে সেই সফরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। সফরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি প্রচার করেছিল, তাতে সাবমেরিন দেয়ার উল্লেখ ছিল না।

তবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে কিলো ক্লাসের ওই সাবমেরিন ‘আইএনএস সিন্ধুবীর’ মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতায় সহায়তার ক্ষেত্রে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেদিক থেকে সাবমেরিন দেয়ার সিদ্ধান্তটি সংগতিপূর্ণ। রাশিয়ার তৈরি এই সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীতে নেয়া হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। এটি ছিল ১১তম সাবমেরিন স্কোয়াড্রনের অংশ।

অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডে সেটির পূর্ণ সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সাবমেরিনটি সংস্কার ও সংযোজনের কাজ শেষ করেছে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (এইচএসএল)।

সংস্কারে থাকা আইএনএস সিন্ধুবীর

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই ব্রিফিংয়ে এ কথাও জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ যে ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করেছে, ভারত তাতে আমন্ত্রিত। ২২ অক্টোবর সেই সম্মেলন হবে। জাতিসংঘ এর আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু কোভিডসহ অন্যান্য কারণে অর্ধেক অর্থও সংগৃহীত হয়নি। ওই সম্মেলনের লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব অর্থ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের জন্য খরচ করা।

মুখপাত্র এই প্রসঙ্গে বলেন, ভারত রাখাইন প্রদেশের গৃহচ্যুতদের দ্রুত, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন চায়। দুই দেশকে এই জন্য ভারত সহায়তাও দিচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী