পরিবারকে তালাবন্ধ রেখে ধর্ষিতার দেহ সৎকার করল পুলিশ

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পরিবারকে তালাবন্ধ রেখে ধর্ষিতার দেহ সৎকার করল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৯ ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:০২ ১ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশে ঘটেই চলছে একের পর এক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। এবার বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যটির পুলিশকে ঘিরেও। সম্প্রতি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া এক তরুণীর পরিবারের সদস্যদের ঘরে তালাবন্ধ করে তার দেহ সৎকারের অভিযোগ উঠেছে উত্তর প্রদেশের পুলিশের বিরুদ্ধে।

দু’সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে হাথরসে ১৯ বছরের ধর্ষিতা তরুণীর। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, তার দেহ বাড়িতেই নিয়ে যেতে দেয়নি পুলিশ। পরিবারের সকলকে ঘরে তালাবন্ধ করে রেখে রাত আড়াইটের সময় তার দেহ সৎকার করেছে পুলিশ। যা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

১৫ দিন আগে মা এবং ভাই বোনদের সঙ্গে ক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন হাথরসের ওই দলিত কন্যা। সেখানেই চারজন উচ্চবর্ণের যুবক তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পাশাপাশি তার উপর তীব্র অত্যাচারও চালানো হয়। কেটে দেওয়া হয় জিভ।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রথমে এফআইআর নিতে চায়নি পুলিশ। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হলে পুলিশ এফআইআর গ্রহণ করে। চার অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়।

উত্তর প্রদেশে চিকিৎসায় সাড়া না দেয়ায় ওই নারীকে দিল্লির এইমস-এ নিয়ে আসা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। কিন্তু তার পরেও বিতর্ক থামেনি। ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পরে দেহ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। পরিবারের হাতে তা তুলে দেয়া হচ্ছিল না। এর প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন ধর্ষিতার আত্মীয় এবং গ্রামের মানুষেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেহ পরিবারের হাতে দিতে পুলিশ রাজি হয়। পরিবার জানিয়ে দেয়, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষিতার দেহ সৎকার করা হবে না। এ নিয়ে ফের পুলিশের সঙ্গে বিতর্কের শুরু হয়।

এক সময় পরিবার দেহ সৎকারে সম্মত হয়। তবে তারা পুলিশকে জানায়, রাতে নয়, সকালে দেহ সৎকার করা হবে নিয়মরীতি মেনে। প্রাথমিক ভাবে সে কথা শুনে পুলিশ গ্রাম থেকে চলেও যায়। কিন্তু মাঝ রাতে ফের এলাকায় ফিরে আসে পুলিশ। গ্রামবাসী এবং পরিবারের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাদানুবাদ হয়। অভিযোগ, এর পরেই পরিবারের সকলকে বাড়িতে তালা বন্ধ করে ধর্ষিতার বাবাকে গাড়িতে তুলে শ্মশানে পৌঁছে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশই তার দেহ সৎকার করে দেয়।

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের কাছে ধর্ষিতার ভাই বলেছেন, 'পুলিশ ঠিক ভাবে দিদির দেহ সৎকার পর্যন্ত করতে দিল না।'

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অনুমতিতেই তারা দেহ সৎকার করেছে। কিন্তু রাতের যে ফুটেজ মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশকে সৎকারের অনুমতি দেয়নি পরিবার।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যোগী আদিত্যনাথের আমলে তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া এনকাউন্টারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দলিতের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগও পুলিশের বিরুদ্ধে আছে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী