মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ভারতীয় তরুণী

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ভারতীয় তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে উচ্চ বর্ণের চার অভিযুক্ত ব্যক্তির সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক দলিত তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে গোটা দেশ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশের হাতরাস জেলায় ওই তরুণীর ওপর আক্রমণ চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চার ব্যক্তি তাকে টেনে মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।

এ ঘটনার পর মারাত্মক আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, ওই তরণীর মেরুদণ্ডসহ শরীরের একাধিক হাড় ভাঙা ছিলো। এছাড়া কেটে ফেলা হয় তার জিহবাও।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। হাসপাতালের বাইরেও বিক্ষোভ করেছে বহু মানুষ। অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে ২০১২ সালে দিল্লিতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার তুলনা করছেন।

ওই নারীর ভাই তার বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, হামলার পর প্রথম দশ দিনে কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তিনি বলেন, ‘তাকে মরে যেতে ফেলে যায়। কিন্তু বেঁচে থাকতে ১৪ দিন লড়াই চালিয়েছে।’

পরে এই ঘটনায় অভিযুক্ত চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা জানান, নৃশংস এই অপরাধের মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি সবসময়ই ওই এলাকার দলিত নারীদের হয়রানি করতো।

আরো পড়ুনকুয়েতের আমির শেখ সাবাহ মারা গেছেন

দলিত নারীর ওপর নৃশংস এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে উত্তর প্রদেশের বিরোধী দলগুলো। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও দলিত রাজনীতিবিদ মায়াবতী মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘সরকারের উচিত আক্রান্তের পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরণের সহায়তা দেয়া এবং দ্রুত বিচার আদালতে বিচারকাজ চালিয়ে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তি নিশ্চিত করা।’

উত্তর প্রদেশের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেছেন, নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রতি রাজ্য সরকার সংবেদনশীল নয়। আক্রান্ত নারীকে হাসপাতালে দেখতে যান দলিত রাজনীতিবিদ ও অ্যাকটিভিস্ট চন্দ্রশেখর আজাদ। আর ওই নারীর মৃত্যুর পর ভারত জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তার দল ভিম আর্মি।

ভারতের সবচেয়ে নিপীড়িত নাগরিক দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা। হিন্দু ধর্মের বর্ণপ্রথা অনুযায়ী সবচেয়ে নিচু বর্ণের আওতায় পড়া এসব মানুষদের সুরক্ষায় ভারতে আইন রয়েছে। তারপরও বৈষম্যের শিকার হওয়ার তাদের নিত্য বাস্তবতা। যদিও ভারত জুড়ে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি।

টুইটারে শীর্ষ আলোচনার ট্রেন্ডে উঠে এসেছে ভারতে দলিত নারীর মৃত্যুর ঘটনা। অনেকেই তাকে ভুলে যাওয়া নির্ভয়া আখ্যা দিচ্ছেন। ২০১২ সালে দিল্লির বাসে এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলে হতবাক হয়ে পড়ে গোটা দুনিয়া। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নারীকে নির্ভয়া নাম দেয় ভারতের সংবাদমাধ্যম।

দিল্লির ওই হামলার পর ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। তারই জেরে দেশটির ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হয়। তবে তারপরও ভারতে নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ কমে যাওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী