বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সংঘর্ষ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সশস্ত্র বাহিনী। আজারবাইজানের একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে আর্মেনিয়ার বাহিনী।

আর্মেনিয়া দাবি করেছে, আজারবাইজানই প্রথমে বিমান এবং আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজান বলছে, তারা আর্মেনিয়ার হামলার জবাবে পাল্টা হামলা করেছে। এই লড়াইয়ে অনেক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই দ্বন্দ্ব আবারও শুরু হয়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্ত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দুইটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আলাদা হয় তারা। গত চার দশক ধরে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে এই দুই দেশ দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অঞ্চল হিসেবেই স্বীকৃত নাগোর্নো-কারাবাখ। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করে জাতিগত আর্মেনিয়ানরা।

এর আগে, গত জুলাই মাসেও দুই দেশের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। এতে ১৬ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বিরাট বিক্ষোভ শুরু হয়েছিলো। এই বিক্ষোভ থেকে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল পুনর্দখলে পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগের আহবান জানানো হয় সরকারের প্রতি।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,  স্থানীয় সময় সকাল ৮ টা ১০ মিনিটে নাগোর্নো-কারাবাখের বেসামরিক বসতির ওপর হামলা শুরু হয়। এছাড়া ওই অঞ্চলের রাজধানী স্টেপনাকার্টেও হামলা চালানো হয়।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, দুইটি হেলিকপ্টার এবং তিনটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে তারা। এছাড়া তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আমরা এই হামলার যোগ্য জবাব দিবো। এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়িত্ব আজারবাইজানের সামরিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুশান স্টেপানিয়ান জানান, এই হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো অনেক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

নাগার্নো-কারাবাখের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ সেখানে সামরিক আইন জারি করেছে। অঞ্চলটিতে সব সক্ষম পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে ডাকা হয়েছে।

এদিকে আজারবাইজান ঘোষণা করেছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। আর্মেনিয়ার বাহিনীর হামলা প্রতিহত করা এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা বিধান করাই তাদের লক্ষ্য।

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েকটি গ্রামের ওপর ব্যাপক গোলাবর্ষণের ফলে সেখানে অনেক বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। এছাড়া সেখানকার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, তাদের একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবে হেলিকপ্টারে থাকা ক্রুরা বেঁচে আছেন। আর্মেনিয়ার ১২টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। তবে আর্মেনিয়া আরো যেসব ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়েছে সেগুলো অস্বীকার করছে আজারবাইজান।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার এই বিরোধে বহু বছর ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি এন্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই)। একটি যুদ্ধবিরতির জন্য এই প্রচেষ্টায় জড়িত আছে মিনস্ক গ্রুপ নামের কূটনীতিকদের একটি দল। ওই দলে ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা রয়েছেন।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ