ভাইরাস ছড়ানোর আতঙ্কে আসামে ১২ হাজার শূকর হত্যার নির্দেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভাইরাস ছড়ানোর আতঙ্কে আসামে ১২ হাজার শূকর হত্যার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২১ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:২২ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শূকর থেকে মানব দেহে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে ভারতের আসামে ১২ হাজার শূকরকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শনিবার রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল এই নির্দেশ দেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে।

ভারতে মহামারি করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগে থেকেই আসামের বহু জায়গায় আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর প্রভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে কয়েক হাজার শূকর মারা গিয়েছে। আর তাই এবার এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া জায়গাগুলিতে শূকর নিধনের জন্য নামবে প্রশাসন।

অক্টোবর মাস শেষ হওয়ার আগে আসামে ১২ হাজার শূকর মারা হবে বলে জানা গেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, মার্চ মাস থেকেই আসামের বিভিন্ন জায়গায় আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর প্রভাবে শূকরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছিল। তার পর কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে প্রায় ১৮ হাজার শূকরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাচ্ছে সরকারি হিসাব।

শূকর ফার্মের মালিকরা অবশ্য সরকারের হিসাব ভুল বলছেন। তাদের দাবি, গোটা রাজ্যে কম করে এক লাখ শূকর মারা গিয়েছে।

আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর কোনও ভ্যাকসিন নেই। ঘরোয়া ও বন্য শূকর এই রোগের প্রভাবে মারা যায়। ফার্মের মালিকদের দাবি, এই রোগে মৃত্যুর হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ, একবার কোনো ফার্মে এই রোগ হানা দিলে আর রক্ষে নেই। দিনকয়েকের মধ্যে ফার্মের প্রায় সব শূকর মারা যায়।

ফার্ম মালিকরা সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, কয়েক মাস আগেই তারা প্রশাসনকে এই রোগের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকী ব্যাপক ক্ষতি হলেও সরকারের তরফে কোনো ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়নি।

আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু পশুদের থেকে মানুষের শরীরের ছড়ানোর কোনো রেকর্ড নেই। এই রোগের প্রভাবে সাধারণত শূকর মারা যায়। দূষিত চারা, জুতো, নোংরা কাপড় থেকে সাধারণত এই রোগের জীবাণু ছড়ায়। তবে করোনার পরিস্থিতির আসামের অনেক অঞ্চলের মানুষ আতঙ্কিত। প্রশাসনের তরফে তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী