তাইওয়ানে মার্কিন সেনা প্রত্যাবর্তনে ঘটতে পারে জোরপূর্বক একত্রীকরণ

ঢাকা, রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২২ রজব ১৪৪২

তাইওয়ানে মার্কিন সেনা প্রত্যাবর্তনে ঘটতে পারে জোরপূর্বক একত্রীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৯ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:০৮ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি’র সম্প্রতি চালানো মহড়াকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই উত্তেজনাকে ঘিরে দ্বীপটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জার্নাল।

তবে এই আহ্বানের ঘোর বিরোধীতা জানিয়েছে চীন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে দেশটির সঙ্গে চীনের এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির লঙ্ঘন ঘটতে পারে, যেগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সব ধরনের ভূখণ্ড থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি তুলে নিতে সম্মত হয়েছিলো।

এ কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত আহ্বান বা পরামর্শ তাইওয়ানের জনগণের কোনো ভালো কাজে আসবে না। আর যদি যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবেই নেয়, তবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নিবে এবং এর ফলে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের জোরপূর্বক একত্রীকরণ ঘটবে।

সম্প্রতি তাইওয়ান প্রণালীতে পিএলএ দু’টি বিমানবাহী রণতরী নিয়ে তাদের নিয়মিত সামরিক মহড়া চালায়। অনেক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীন কর্তৃক তাইওয়ান দখল করে নেয়ার ক্ষেত্রে এই রণতরী দু’টি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এ মহড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জার্নালে প্রকাশিত ‘ডিটারিং দ্য ড্রাগন: রিটার্নিং ইউএস ফোর্সেস টু তাইওয়ান’ শীর্ষক একটি কলামে মার্কিন মেরিন কর্পসের সদস্য ক্যাপ্টেন ওয়াকার ডি. মিলস লেখেন, ‘পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে চীনের সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে তাইওয়ানে ফের সামরিক ঘাঁটি পুন:স্থাপনের কথা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবা উচিত।’

জার্নালটির আরেকটি কলামে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্বীপটিতে সাপোর্টিং ইউনিটসহ দুই বা চার ডিভিশনের একটি কর্পস পাঠানো, যাতে সেখানে পিএলএ –এর আগ্রাসন রুখে দেয়া যায়।’

এদিকে মার্কিন জার্নালে প্রকাশিত এই কলামগুলোর জবাবে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে এর পরিনাম হবে ভয়াবহ। এতে করে শুধু দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিরই লঙ্ঘন হবে না, ব্যাপক আঞ্চলিক উত্তেজনারও সৃষ্টি হবে। যার প্রভাব পড়বে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কেও।

চীনের বিচ্ছিন্নতা বিরোধী আইন ও সংবিধানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, চীনের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো বহির্শক্তির আঘাত আসলে চীন তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী