বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গিয়েই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করবে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গিয়েই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩২ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৩ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

মাইক পম্পেও

মাইক পম্পেও

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রসহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের (ইউএনএসসি) প্রায় সব সদস্যকে ছাড়াই একতরফাভাবে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই পদক্ষেপের আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকায় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইরান এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোববার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুমকি দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো সদস্য দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সঙ্গে একমত পোষণ না করে তবে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এর আগে, ২০১৫ সালে ৬টি দেশের সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে বলা হয়, ইরান শর্ত মেনে চললে তাদের ওপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে সেটি পুনরায় আর বাড়ানো হবে না। তবে দুই বছর আগে ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

মাইক পম্পেও বলেন, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে ওই ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোকে পরিণতি ভোগ করতে হবে। ওই রাষ্ট্রগুলো এবং ইরান যেন জাতিসংঘের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডগুলো পুনরায় শুরু করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষগুলোকে ব্যবহার করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪ স্থায়ী সদস্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহা্লে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দেয়নি। নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ২০১৫ সালের চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা অব্যাহত থাকা উচিত।

ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, সেসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মকাণ্ড আইনগত প্রায়োগিক শর্ত পূরণে সক্ষম হবে না। এছাড়া ইউএনএসসির ১৫ সদস্যের মধ্যে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ ১৩ সদস্য জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ অকার্যকর।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেবেন না তিনি। কারণ এতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এটি আগামী নভেম্বরে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সূত্র- আল জাজিরা

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ