গলে যাচ্ছে বরফ, ভয়ংকর ছবি প্রকাশ করলো নাসা

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গলে যাচ্ছে বরফ, ভয়ংকর ছবি প্রকাশ করলো নাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:০০ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৫৭ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সৃষ্ট উষ্ণায়নের জন্য খুব দ্রুত হারে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে। এই হার বজায় থাকলে আগামী ৮০ বছর পর সমুদ্রগুলোর অবস্থা হবে ভয়ংকর। আমাদের সমুদ্রগুলোর জলস্তর প্রায় দেড় ফুট ওপরে উঠে আসবে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক গবেষণা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সংস্থাটির গবেষকদল জানিয়েছে, এই হারে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গললে ২১০০ সালে পৃথিবীর সবকয়টি সমুদ্রের জলস্তর ১৫ ইঞ্চিরও (৩৮ সেন্টিমিটার) বেশি উঠে আসবে। যা এখন পর্যন্ত সব পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি। অনেক বেশি ভয়ংকর।

চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘ক্রায়োস্ফিয়ার’এর বিশেষ ইস্যুতে এই পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। এটি নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের নেতৃত্বে ‘আইস শিট মডেল ইন্টার-কমপ্যারিজন প্রজেক্ট (আইএসএমআইপি৬)’-এর তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

গত বছর ‘ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)’-এর একটি বিশেষ রিপোর্টে হুঁশিয়ারি দেয়া হয় যে, ২১০০ সালে আমাদের সমুদ্রগুলোর জলস্তরের উচ্চতা-বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশই হবে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের চাঙড়গুলি গলে যাওয়ার কারণে।

আইপিসিসির ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছিলো, গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার জন্য ২০০০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে ৩ দশমিক ১ থেকে ১০ দশমিক ৬ ইঞ্চি (৮ থেকে ২৭ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত। আর অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার জন্য এই শতাব্দীতে সমুদ্রের জলস্তর উঠে আসবে ১ দশমিক ২ থেকে ১১ ইঞ্চি (৩ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত।

প্রকল্পের মূল গবেষক বাফালো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফি নোউইকি বলেছেন, ৮০ অথবা ১০০ বছর পর সমুদ্রের জলস্তর কতটা উঠে আসবে তা নির্ভর করবে খুব পুরু বিশাল বিশাল বরফের চাঙড়গুলো কি হারে গলে যাবে তার ওপর। আর বরফের সেই সুবিশাল চাঙড়গুলোর প্রায় সবটাই আছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায়। এই বরফের চাঙড়গুলোর গলে যাওয়া নির্ভর করছে উষ্ণায়নের ওপর।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার হার। কারণ, পরিবেশের তাপমাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের পুরু বিশাল বিশাল বরফের চাঙরগুলোর উপরের স্তর দ্রুত গলে যাচ্ছে। আর সমুদ্রের তাপমাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে চলায় গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র-লাগোয়া হিমবাহগুলোও গলতে শুরু করেছে।

পুর্বাভাস দিতে গিয়ে গবেষকরা দুইরকম ভাবে হিসেবটা কষেছেন। তারা দেখেছেন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার যদি এখনকার চেয়ে বেড়ে যায় তাহলে শুধু গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাঙড়গুলো গলে যাওয়ার জন্যই ২১০০ সালে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে সাড়ে ৩ ইঞ্চি (৯ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত। আর সেই নির্গমন কিছুটা কম হলে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার জন্য ২১০০ সালে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে সাড়ে ১.৩ ইঞ্চি (৩ সেন্টিমিটার)। এর আগের কোনো পূর্বাভাসেই এতটা বিপদের ছবি ফুটে বের হয়নি।

এই গবেষণা ২০২২ সালে আইপিসিসির রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র- আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ