ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৯ শিশুসহ নিহত ২০

ঢাকা, সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৯ শিশুসহ নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৫ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২০:২৮ ৮ আগস্ট ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সৌদি সামরিক জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয় জনই শিশু। চলতি মাসে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো দ্বিতীয় ভয়াবহ হামলা এটি।

জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক মানবাধিকার সমন্বয়ক লিসে গ্র্যান্ডে এক বিবৃতে বলেন, বৃহস্পতিবারের এই হামলায় হতাহতদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। তারা গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলো।

এ ধরনের হামলার ঘটনা চূড়ান্তভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় জাওফ প্রদেশ হুথি বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্রোহীদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সমর্থপুষ্ট ইয়েমেন সরকার উত্তরাঞ্চীয় এলাকায় অন্তত ছয় দফা বিমান হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে তারা জানায়, অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু।

হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গণমাধ্যম এবং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রবেশাধিকার সীমিত। তাই ওইসব এলাকায় কী ঘটে তার বিস্তারিত জানা খুবই কঠিন।

সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র, তুর্কি আল মালিকি সৌদি গণমাধ্যম আশরাক আল আওসাতকে বলেন, বেসামরকি নাগরিক হতাহতের অভিযোগের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি আমরা।

গেলো কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি জোট। তাদের অব্যাহত বিমান হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিয়ের অনুষ্ঠান। জোটের এমন নিষ্ঠুরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের মিত্রদের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে মধ্যে ফেলেছে।

১৪ জুলাই জাতিসংঘ জানায়, হাজ্জাহ প্রদেশে বিমান হামলায় সাত শিশু নিহত হয়েছে। যাদের কয়েকজনের বয়স দু’বছরেরও কম। হুথি বিদ্রোহী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের বরাতে গণমাধ্যম জানায়, নতুন জন্ম নেয়া শিশুর নাম রাখার অনুষ্ঠানে পরদিনই হামলা চালায় সৌদি জোট। নিহত হয় ছয় শিশুসহ ১০ জন।

২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে দেশটির জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার প্রধান আবদ রাব্বু মানসুর হাদিকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। পরের বছরই সৌদি আরব সামরিক জোট গঠন করে। বলা হয় ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব প্রতিহিত করাই তাদের লক্ষ্য।

ইয়েমেন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০ লাখের বেশি। দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নির্ভর করে খাদ্য সহায়তার উপর। ইয়েমেনের এ পরিস্থিতিকে পৃথিবীর ভয়াবহতম মানবিক সংকট আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী