করোনার সুবাদে বিশ্বজুড়ে পদচিহ্ন রাখলো চীনের বিজিআই গ্রুপ

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনার সুবাদে বিশ্বজুড়ে পদচিহ্ন রাখলো চীনের বিজিআই গ্রুপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৯ ৫ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২১:২৭ ৫ আগস্ট ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত প্রায় পুরো বিশ্ব। এ ভাইরাস শনাক্ত করতে পরীক্ষা  নিয়ে হুড়াহুড়ি অবস্থা চলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এমন অবস্থার মধ্যেই এই পরীক্ষার সুবাদে নাম কামিয়ে নিচ্ছে চীনের এক প্রতিষ্ঠান। করোনার মধ্যেই প্রায় সারাবিশ্বে পদচিহ্ন রাখছে জেনোম নিয়ে গবেষণাকারী বিজিআই গ্রুপ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি।

গত ছয় মাসে বিশ্বের ১৮০টি দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি কোভিড-১৯ টেস্টিং কিট বিক্রি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ১৮টি দেশে মোট ৫৮টি গবেষণাগার স্থাপন করেছে এটি। ওই গবেষণাগারগুলোতে কিছু সরঞ্জাম দিয়েছে বিজিআইয়ের জনহিতকর শাখা। তাদের এ কাজে সমর্থন দিয়েছে চীনের দূতাবাসগুলো। টেস্ট কিটগুলোর পাশাপাশি জিন সিকোয়েন্স প্রযুক্তিও ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি , জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে এই বিষয়টি। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী একটি স্পর্শকাতর বিষয় এটি। সিকোয়েন্স ডিভাইসগুলো জেনেটিক উপাদান বিশ্লেষণ করে এবং এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারে বলেও জানায় তারা।

বিজিআই’র সরঞ্জামে বিশ্লেষণ করা করোনার তথ্য পাঠাতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষকদেরকে বিজ্ঞান সাময়িকী ও অনলাইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সরকারিভাবে চীন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ন্যাশনাল জিনব্যাংকে পাঠাতে চায় তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই কাজে ঝুঁকি রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের জেনেটিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে চীন।

চীনের শেনঝেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের ভিত্তিমূলে চীন সরকারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চীনের জাতীয় জেনেটিক ডাটাবেজ সংরক্ষণ ও সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান গবেষণাগারগুলোতে গবেষণা পরিচালনায় ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিকে।

শেয়ারবাজারে নথিপত্রে বিজিআই উল্লেখ করেছে যে, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলোজি প্রতিযোগিতায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা অর্জনে সহযোগিতা করাই এর উদ্দেশ্য।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, বিজিআইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো করোনা রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘনের প্রমাণ পায়নি তারা। এছাড়া রয়টার্সের এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিআই জানায়, প্রতিষ্ঠানটি চীন সরকারের মালিকানাধীন নয়।

রয়টার্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে বিজিআই জানায়, বিশ্বজুড়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের অধীনে বিজিআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে যে ভয় উত্থাপিত হয়েছিলো সেটি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। মানুষের স্বাস্থ্য এবং সুস্বাস্থ্যের জন্যই জিনোমিক্সের ব্যবহার করে তারা।

সূত্র- রয়টার্স

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ