আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে অনিবন্ধিত মোবাইল, যেসব তথ্য জানা জরুরি

ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৮,   ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে অনিবন্ধিত মোবাইল, যেসব তথ্য জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:২১ ১ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ০৭:৪৮ ১ অক্টোবর ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশে আজ থেকে অবৈধ বা অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিটিআরসির স্পেকট্রাম ডিভিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অবৈধ হ্যান্ডসেট যেগুলো ছিল, গত তিন মাস সেগুলোর ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক সময় ছিল। সেই সেটগুলো যাচাই করে সেসব নম্বরে এতদিন টেক্সট পাঠানো হয়েছে যে সেগুলো অবৈধ। তবে শুক্রবার থেকে কার্যকর হলেও অনিবন্ধিত ফোন সেট বন্ধ করার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে আরো সময় নিয়ে পদক্ষেপ নেবে বিটিআরসি। যেন মানুষজন এই বিষয়টিতে অভ্যস্ত হতে পারে।

অবৈধ সেট বন্ধ করার বিষয়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা শহিদুল আলম জানান, ১ অক্টোবর থেকে অবৈধ সেট বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করলেও ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য এই প্রক্রিয়ার কার্যক্রমও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই কার্যক্রম পরিচালনায় টেলিকম অপারেটরগুলো বিটিআরসির সঙ্গে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমরা শুক্রবার থেকে চালু থাকা অবৈধ ফোনসেটে টেক্সট মেসেজ পাঠানো শুরু করবো। কিন্তু অনেকেই হয়তো সেই মেসেজ কয়েকদিন পরে দেখবে, বা খেয়াল করবে না। ব্যবহারকারীরা যেন আস্তে আস্তে বিষয়টিতে অভ্যস্ত হতে পারেন, এ জন্য এই কার্যক্রমও আমরা পরীক্ষামূলকভাবে করবো। এই সময়ে টেক্সট মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে অবৈধ সেট বন্ধ করার কার্যক্রমও চালু থাকবে

অনিবন্ধিত সেট হলে সেটিতে সিম ঢুকানোর সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ যাবে যে সেটটি অনিবন্ধিত। ওই মেসেজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেটটি রেজিস্ট্রার করার নির্দেশনা দেয়া থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেটটি নিবন্ধন না করলে সেটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

অবৈধ সেট সম্পর্কে সতর্ক করার পর কতক্ষণ বা কতদিনের মধ্যে একটি সেট বন্ধ করা হবে- এবিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলেও জানান শহিদুল আলম। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, কারণ বন্ধ করার আগে একটি সেট যাচাই করতে ও তা আসলেই অনিবন্ধিত কি-না, তা যথেষ্ট সময় নিয়ে নিশ্চিত হয়েই সেটি বন্ধ করার পরিকল্পনা বিটিআরসির।

বিটিআরসি বলছে, এই নিয়ম কার্যকর হলে ছিনতাই করা সেট কেনা-বেচা করা বন্ধ হবে এবং সেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

ব্যবহৃত সেটের ক্ষেত্রে কী হবে?

বিটিআরসি কর্মকর্তা শহিদুল আলম জানান, একজন ব্যবহারকারী একবার সেট রেজিস্ট্রার করার পর যদি সেটি অন্য কাউকে বিক্রি করতে চান তাহলে সেটি ‘ডি-রেজিস্ট্রার’ করে বিক্রি করতে হবে। এই নিয়ম কার্যকর হলে ব্যবহৃত সেট কেনার ক্ষেত্রেও মানুষ চোরাই সেট কিনতে পারবে না। নিবন্ধিত সেটই কিনতে হবে। কিন্তু একজন ব্যবহারকারী যখন তার ব্যবহারের সেট বিক্রি করবে, তখন তার সিম থেকে ওই সেটটি 'ডি-রেজিস্ট্রার' করতে হবে। মানুষ যেন এই ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে পারে, এ লক্ষ্যে নিয়মটিও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বিটিআরসির।

বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আনা সেটের ক্ষেত্রে কী হবে?

বিটিআরসির স্পেকট্রাম ডিভিশনের মহাপরিচালক শহিদুল আলম জানান, বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় দেশী বা বিদেশি যেকোনো নাগরিক ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ আটটি সেট নিয়ে আসতে পারবেন। এই আটটি সেটের মধ্যে দু’টির জন্য কোনো কর দেয়া লাগবে না। বাকি ছয়টির জন্য কর দিতে হবে। অর্থাৎ কোনো কর না দিয়ে দু’টি সেট যে কেউ নিয়ে আসতে পারবে।এই সেটগুলো নিবন্ধন করতে পাসপোর্ট নম্বর ও যাত্রীর বোর্ডিং পাস প্রয়োজন হবে।

বিদেশ থেকে আনা সেটে বাংলাদেশের যেকোনো অপারেটরের সিম ঢুকালে যাচাই-বাছাইয়ের পর বিটিআরসি থেকে ওই সিমে একটি মেসেজ পাঠানো হবে, যে সেটটি অনিবন্ধিত। তখন পাসপোর্ট নম্বর ও বোর্ডিং পাসের মাধ্যমে অনলাইনে ওই সেটটি নিবন্ধন করা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ