কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে ডিজিটাল কমার্স

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে ডিজিটাল কমার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৩ ১১ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৯:৩১ ১২ এপ্রিল ২০২১

কোভিড পরবর্তী বৈশ্বিক বাজারের ডিজিটাল কমার্স সংক্রান্ত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

কোভিড পরবর্তী বৈশ্বিক বাজারের ডিজিটাল কমার্স সংক্রান্ত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, প্রচলিত সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য ডিজিটাল কমার্স একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে। ডিজিটাল কমার্সের বিকাশে নীতিগত যেকোনো সহায়তা প্রদানে সরকার আন্তরিক।

রোববার রাজধানীতে ই-ক্যাব আয়োজিত কোভিড পরবর্তী বৈশ্বিক বাজারের ডিজিটাল কমার্স সংক্রান্ত সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কেবল বাণিজ্যই নয়, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও কলকারখানাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ডিজিটাল মহাসড়ক দিয়েই এগিয়ে যাবে। ডিজিটাল মহাসড়ক নির্মাণ প্রক্রিয়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই সম্পন্ন হবে। করোনাকালে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এরই মধ্যে দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ এলাকা ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। হাওড়, দ্বীপ ও দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই তা সম্পন্ন হবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডাকঘর দেশব্যাপী বিশাল নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল কমার্সের বিকাশে সম্ভাব্য সবকিছু করতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে কাজ চলছে। ডিজিটাল কমার্সের পাশাপাশি ডাকঘরে বিদ্যমান অন্যান্য সেবা কর্মকাণ্ড জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে পুরো ডাক সার্ভিস ডিজিটালাইজেশন করার কার্যক্রমও আমরা শুরু করেছি।

ইন্টারনেটের মূল্য বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০৮ সালে এক এমবিপিএস ইন্টারনেটের মাসিক মূল্য ছিল ২৭ হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমিয়ে ২৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ব্যয় নয়, এটি বিনিয়োগ। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে এরই মধ্যে ৫৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন করে দেয়া হয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের জন্য টেলিটক ফ্রি ইন্টারনেট দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন চালু করা হবে।

মন্ত্রী আরো জানান, বিটিসিএল ১২ হাজার ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন তৈরি করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে সহজে পায় সে লক্ষ্যে স্বল্প মূল্যে তাদের স্মার্ট ফোন সরবরাহ করার বিষয়টি নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিজিটাল কমার্সের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা আশা করছেন ডিজিটাল কমার্সের বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে ডিজিটাল কমার্স বিলিয়ন ডলারের মার্কেটে পরিণত হবে।

ই-ক্যাব সভাপতি শমি কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- এমপি ফাহিম রাজ্জাক, ভূমি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন, সাবেক সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও মফিজুর রহমান এবং ই-ক্যাবের সেক্রেটারি আবদুল ওয়াহেদ তমাল। অনুষ্ঠানে এটুআই কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক জামি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এইচএন