পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪০ ৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:৪০ ৩ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একটি স্মার্টফোন থাকা মানেই হাতের মুঠোয় পুরো দুনিয়া। তবে বাড়ি বা অফিসের বাইরে থাকলে স্মার্টফোন চার্জ করাটা বেশ মুশকিল। 

এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হলো পাওয়ার ব্যাংক। তাই রইল পছন্দসই মডেলের পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে কিছু পরামর্শ।

> সারা দিনে একটি না একাধিক স্মার্টফোন চার্জ করবেন এবং কতবার চার্জ করবেন- সেই অনুসারে পাওয়ার ব্যাংক পছন্দ করুন। দরকার হলে বেশি পাওয়ার ক্যাপাসিটির ব্যাংক কেনা যেতেই পারে। তবে সেটিকে ফুল চার্জ দিতে সময় লাগবে।

তবে ক্যাপাসিটি বেশি হলে বেড়াতে যাওয়ার সময়ে কাজে লাগে বেশি। পাওয়ার ব্যাংক একবার ফুল চার্জ দিয়ে নিলে একাধিক ফোনে একাধিক বার চার্জ দেয়া যায়।

> যে কোম্পানির কিংবা মডেলেরই পাওয়ার ব্যাংক কিনুন, তাতে একসঙ্গে অন্তত দু’টি বা তার বেশি স্মার্টফোন চার্জ দেয়ার সুযোগ রয়েছে কি না দেখে নিন। 

পাশাপাশি এটাও দেখা জরুরি যে, পাওয়ার ব্যাঙ্কটিতে ব্যাটারির ‘স্টেটাস ইন্ডিকেটর’ রয়েছে কি না। এই ধরনের ইন্ডিকেটর থাকলে, পকেটের পাওয়ার ব্যাঙ্কে ব্যাটারির চার্জ কতটা রয়েছে, সেটা সহজে দেখে নিতে পারবেন এবং সেই অনুসারে ব্যবহার করতে পারবেন।

> কিছু বিশেষ কোম্পানির পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে, যেগুলো আকারে বেশ বড়। পাওয়ার ব্যাংকের আকার বড় বলেই, আপনি বেশি পাওয়ার ব্যাকআপ পাবেন এমনটা ভেবে নেয়াও ভুল। 

বরং পাওয়ার ব্যাকআপের বিষয়টা পুরোপুরি নির্ভর করে ব্যাংকের ভিতরে থাকা ব্যাটারির গুণগত মানের উপরে। তাই এমন পাওয়ার ব্যাংক কিনুন, যেটি আপনি সহজে পকেটে ঢুকিয়ে নিতে পারবেন। 

> ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে এমন পাওয়ার ব্যাংক কিনুন। তবে এক্ষেত্রে হয়তো টাকা একটু বেশি লাগতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে সেটি লাভজনক। 

> স্থানীয় কোনো কোম্পানির কিংবা কম দামের প্রলোভনে পাওয়ার ব্যাংক না কেনাই ভালো। চেষ্টা করুন নামী ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক কেনার। 

> পাওয়ার ব্যাংকের কার্যকারিতা পুরোটাই নির্ভর করে, ব্যাটারির গুণগত মান এবং ব্যাংকের সার্কিটের উপরে। স্থানীয় সংস্থার তৈরি কিংবা কম দামের পাওয়ার ব্যাংকের ওয়্যারিংয়ে অনেক সময় শর্ট-সার্কিটের অভিযোগ পাওয়া যায়। 

এক্ষেত্রে পাওয়ার ব্যাংকটিকে পুরোপুরি বদলে ফেলা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই আর কোনো উপায় থাকবে না। অনলাইনে তো বটেই, ইলেকট্রনিক্সের দোকানে বিভিন্ন দামের পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়। মোটামুটি ভাবে বলা যায়, ৬০০ টাকার কাছাকাছি দামের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংকপেয়ে যাবেন।

> যে পাওয়ার ব্যাংকটি কিনছেন, সেটিতে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি রয়েছে কি না দেখে নিন। সাধারণত পাওয়ার ব্যাংক পুরোপুরি চার্জ হতে অনেকটাই সময় লাগে। তাই অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ব্যাংকটিকে চার্জে বসিয়ে দেয়ার। 

এতে সকালে উঠে পাওয়ার ব্যাংক ফুল চার্জ হলেও এক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কাও থাকে। বাজারে কিনতে পাওয়া যায় এমন অনেক পাওয়ার ব্যাংকেই ‘অটো-কাট’-এর প্রযুক্তি থাকে না। ফলে ব্যাংকের ব্যাটারি পুরোপুরিভাবে চার্জ হয়ে গেলেও, চার্জিং চালু থাকে। 

এতে ব্যাটারি গরম হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এমন অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বেশি গরম হয়ে ব্যাটারি ফেটেও গিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে গঠনগত কারণেই লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি অনেকটাই ভালো। আবার এই ধরনের ব্যাটারির পাওয়ার ব্যাকআপ দেয়ার ক্ষমতাও বেশি। 

তাই লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি এবং অটো-কাট প্রযুক্তি দেখেই পাওয়ার ব্যাংক পছন্দ করুন। যে কোম্পানির এবং মডেলের পাওয়ার ব্যাংক কিনবেন, পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন।

> অনেকেই স্মার্টফোন হোক কিংবা পাওয়ার ব্যাংক হাতের কাছে থাকা কেবল লাগিয়েই চার্জিংয়ে বসিয়ে দেয়। এটি মটেও ভালো অভ্যাস নয়, তাই পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময়, যে চার্জিং কেবলটি কোম্পানি থেকে দেয়া হয়েছে, সেটি দিয়েই পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করুন। এতে দ্রুত ফুল-চার্জ করতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস