কিছুতেই ক্ষুধা সহ্য হচ্ছে না, আলসার নয় তো?  

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

কিছুতেই ক্ষুধা সহ্য হচ্ছে না, আলসার নয় তো?  

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৯ ২৬ অক্টোবর ২০২১  

আলসার। ছবি: সংগৃহীত

আলসার। ছবি: সংগৃহীত

সুস্থতার জন্য আমাদের খাবার খাওয়া জরুরি। খিদে পেলে খাবার খেতে হয় তা আমাদের সবারই জানা। খাবার খিদে মেটাতে সহায়তা করে। দিনের বিশেষ কিছু সময়ে আমরা সবাই নিয়ম করে খাবার খেয়ে থাকি। এছাড়াও সারাদিন অন্যান্য সময়েও অল্প পরিমাণে কিছু না কিছু খাওয়া হয়ে থাকে। 

অনেক সময় দেখা যায়, ব্যস্ততার কারণে খিদে পেলেও সঠিক সময়ে খাওয়া হয় না। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা ক্ষুধা একদম সহ্য করতে পারেন না। যদি আপনার মধ্যেও এমন সমস্যা থাকে তবে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ ক্ষুধা শ্য না হওয়া আলসারের লক্ষণ হতে পারে। 

এই ব্যাপারে বায়োমেড ডায়াগনস্টিক এন্ড রিসার্চ ল্যাবের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম (এমবিবিএস) বিস্তারিত আলচলা করেছেন। চলুন এই সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক- 

আলসার শব্দটির সহজ অর্থ হচ্ছে ‘ক্ষত’। পেপসিন হচ্ছে পাকস্থলীর পাচক রস, যা আমিষ হজমে সাহায্য করে। পাকস্থলী খাদ্য হজমের জন্য ক্রমাগত হাইড্রোক্লোরিক এডিস তৈরি করে। এই এসিড যাতে পাকস্থলিকেই পুড়িয়ে না ফেলে সেজন্য পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে মিউকাসের ভারী আস্তরণ রয়েছে।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত এসিডিটি থেকে এ ​আস্তরণ ভেদ করে এসিড এবং পেপসিনের যৌথ প্রতিক্রিয়ায় পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে ক্ষত তৈরি হয়, একে পেপটিক আলসার বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগের জন্য হেলিকোব্যক্টের পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কাজ করে।

পেপটিক আলসারের লক্ষণ

>> ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস

>> ক্ষুধা সহ্য করতে না পারা

>> কালো রঙের পায়খানা হওয়া

>> বমি ও বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া

>> মধ্যরাতে ক্ষুধায় ঘুম ভেঙে যাওয়া

>> দীর্ঘদিনের গ্যাসের ওষুধ ব্যবহারের ইতিহাস

>> খাওয়ার পর পর ব্যথা কমে বা বেড়ে যাওয়া

>>  বুক জ্বালাপোড়া বা পেটের ওপরের মধ্যভাগে ব্যথা

>> কয়েকমাস পর পর এসব সমস্যা ফিরে ফিরে আসা ইত্যাদি। তবে সবগুলি বৈশিষ্ট্য সবার মধ্যেই থাকবে, এমন নয়।

চিকিৎসা না করালে কী কী অসুবিধা হয়-

>> ইনফেকশন

>> হজমের গোলমাল

>> ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া

>> আলসারের ক্ষত থেকে রক্তপাত হবে

>> পাকস্থলী বা অন্ত্রের দেয়ালে ছিদ্র হবে

>> খাদ্য পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যেতে না পারা

>> ১০-১৫ বছর পর শেষ পরিণতি হতে পারে ক্যান্সার

চিকিৎসা

আমাদের দেশে অনেক মানুষ এই রোগে ভোগেন। অনেকেই নিজের ইচ্ছামত বিভিন্ন "গ্যাসের ওষুধ" সেবন করে থাকেন। এসব ওষুধ বছরের পর বছর খেয়ে আরো নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়।

অথচ একজন রেজিস্টার্ড এমবিবিএস চিকিৎসক আপনাকে মাত্র ২ মাসের ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে দিতে পারেন। তাই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ