পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

ঢাকা, সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮,   ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৬ ৪ অক্টোবর ২০২১  

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম। ছবি: সংগৃহীত

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম। ছবি: সংগৃহীত

নারীদের অন্যান্য জটিল সমস্যা মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম অন্যতম। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (পিসিওএস) শিশুর জন্ম দিতে পারে এমন বয়সি প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ নারীকে প্রভাবিত করে, তবে কিছু জাতিগত গোষ্ঠীতে এই অবস্থা বেশি ঘটতে পারে। এটি একটি নারীর শরীরে পুরুষ হরমোন উদ্বৃত্ত হওয়ার ফলে ঘটে। এটি পিসিওএস আছে এমন কিছু নারীর ডিম্বাশয়ের উপর সিস্টের উপস্থিতিকে বোঝায়।

প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন নারী পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত, এ রোগের লক্ষণগুলো অন্যান্য রোগের চেয়ে জটিল হওয়ায় অনেক নারীই বুঝতে পারেন না। চলুন এই ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক- 

পলিসিস্টিক ওভারি কি? 

সিস্ট হলো ছোট পানি ভরা থলি, আর একাধিক সিস্টকে একসঙ্গে বলা হয় পলিসিসিস্ট। আর ওভারি যে ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ অরগ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম তা নিশ্চয়ই সবার জানা। ছোট ছোট সিস্ট (১০-১২টি) পুঁতির মালার মতো দেখতে ওভারি বা ডিম্বাশয়কে ঘিরে থাকে। এই সিস্টের জন্য ওভারির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। 

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের সম্ভাব্য কারণ 

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের সঠিক কারণ এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং হরমোন ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি জেনেটিক্সকে অবশ্যই একটি ফ্যাক্টর বলে মনে করা হয়। একজন নারীর পিসিওএস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় যদি তার মা, বোন বা ফুফুর মতো পরিবারের কারো পিসিওএস থাকে।

প্রায় ৮০ শতাংশ নারী যাদের পিসিওএস নির্ণীত হয় তাদের ইনসুলিন প্রতিরোধ থাকে। এই ক্ষেত্রে শর্করা ভাঙার জন্য অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির জন্য শরীরকে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করতে হয়। এটি আবার, টেস্টোস্টেরনের অতিরিক্ত উত্পাদন করতে ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করতে পারে, যা তারপর ফলিকলগুলোর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়। এটি প্রায়ই ডিম্বস্ফোটনকে অনিয়মিত করে তোলে।

জেনেটিক কারণের সঙ্গে সঙ্গে লাইফস্টাইলের কারণগুলোও ইনসুলিন প্রতিরোধের একটি সাধারণ কারণ। ওজন বেশি হওয়া হচ্ছে ইনসুলিন প্রতিরোধের আরেকটি কারণ। হরমোন ভারসাম্যহীনতা যেমন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি, লুইটিনিজিং হরমোন (এলএইচ) –এর উচ্চ মাত্রা এবং প্রোল্যাক্টিনের উচ্চ মাত্রাও পিসিওএস ঘটাতে পারে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের লক্ষণ 

>> শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা। 

>> অনেক ক্ষেত্রেই ইনফার্টিলিটির এক অন্যতম কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। 

>> ঠোঁটের নিচে, গালে বা চিবুকে কখনোবা বুকে, পেটে, পিঠেও পুরুষালি লোম গজায় (যা ওভারি থেকে মাত্রাতিরিক্ত পুরুষ হরমোন অ্যান্ড্রোজেন বেড়ে যায় বলে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়)। 

>> পিরিয়ডের গোলমালের সূত্রপাত হয়, শুরুতে দুই-তিন মাস পরপর পিরিয়ড হয়। কখনোবা হরমোনের তারতম্য বেশি হলে বছরে দুই-তিনবার বা তারও কম পিরিয়ড হয়। কারো আবার অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়। বিবাহিতাদের সন্তান ধারণে সমস্যা হয় অনিয়মিত পিরিয়ডের জন্য। 

যে বয়সে হতে পারে 

যেকোনো বয়সের নারীরই মেনার্কি থেকে মেনোপজ পর্যন্ত হতে পারে। তবে একই পরিবারের নারীদের মধ্যে অনেকের হয় বলে জেনেটিক ফ্যাক্টরকে দায়ী করা হয়। রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই নারীরা ডাক্তারের কাছে আসছেন এবং ইদানীং রোগ নির্ণয়ের অনেক অত্যাধুনিক ব্যবস্থার কারণে রোগ নির্ণয় হচ্ছে বেশি। আগেকার দিনে এ ধরনের মেয়েলি সমস্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হতো না। 

চিকিৎসা

এ সমস্যার সর্বপ্রথম চিকিৎসা মেদ কমানো। একইসঙ্গে লো ডোজের ওরাল পিলস দেয়া হয়। এই পিলস এন্ড্রোজেনের মাত্রা কমায়। যাদের সন্তান ধারণে অসুবিধা হচ্ছে তাদের মেটফরমিন নামে এক ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। এটি ডায়াবেটিসের ওষুধ হওয়া সত্ত্বেও ডিম্বাণু নিঃসরণে সাহায্য করে। এ ধরনের ওষুধ ধৈর্যের সঙ্গে তিন থেকে ছয় মাস খেয়ে যেতে হয়। অবাঞ্ছিত লোমের জন্য ইনেকট্রোলিসিসের সাহায্য নিতে হতে পারে। অনেক সময় নারীরা সাইকোলজিক্যালি এত ডিপ্রেশনে ভোগে, যা সাইকোলজিক্যাল কাউসেলিং এবং প্রয়োজনে ট্রিটমেন্ট নিতে হতে পারে।

সূত্র: পপক্সো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ