অ্যাসিডিটির সমস্যা মোটেও অবহেলার নয়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

অ্যাসিডিটির সমস্যা মোটেও অবহেলার নয়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ৩১ জুলাই ২০২১  

অ্যাসিডিটি। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাসিডিটি। ছবি: সংগৃহীত

আজকাল খুবই সাধারণ একটি সমস্যা হচ্ছে অ্যাসিডিটি। দেখা যায়, খাবারদাবারে একটু উনিশ বিশ হলেই অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। কর্মব্যস্ত জীবনে কেউ কেউ অ্যাসিডিটিকে ‘পার্ট অব লাইফ’ বলেন।

অ্যাসিডিটি হলেই এর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে মুঠোয় মুঠোয় ওষুধ খান অনেকেই। যা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অ্যাসিডিটির জন্য নিয়মিত ওষুধ খেলে শরীরে ভয়ংকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ পরিহার করুন। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই দেখবেন দিন কয়েকের মধ্যেই পাবেন অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি।

অ্যাসিডিটির যত কারণ

পাকস্থলীর গ্যাসট্রিক গ্ল্যান্ডে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণের ফলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা হয়। সাধারণত অনেকক্ষণ খালি পেটে খাকলে, অতিরিক্ত চা, কফি খেলে বা অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ইত্যাদি কারণে পেটে গ্যাস হতে পারে।

অ্যাসিডিটির কারণে যা হয়

অ্যাসিডিটির কারণেই পেট ফুলে ওঠে, ঢেঁকুর ওঠে, বুকজ্বলা করে এবং পেটের অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।

অ্যাসিডিটি এড়াতে যা যা করবেন

 >> যখনই অ্যাসিডিটির সমস্যা বোধ করবেন, তখনই চেষ্টা করবেন ঠাণ্ডা পানি পান করতে। এ সময়টাতে কোমল পানীয় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

>>  কফি না খাওয়ার চেষ্টা করুন। সাইট্রাস ফল থেকে দূরে থাকুন। এতে পেটে গ্যাস আরো বাড়বে। বরং দুধ-চিনি ছাড়া হার্বাল চা পান করতে পারেন।

>>  ঘন ঘন পেটে গ্যাস হওয়ার প্রবণতা থাকলে প্রতিদিন কলা ও তরমুজ খেলে উপকার পাবেন। এমন পরিস্থিতিতে শসাও বেশ উপকারী। আদা খেলেও অ্যাসিডিটিতে আরাম পাওয়া যায়। তাই বাড়িতে আদার গুঁড়া রাখতে পারেন।

>> অতিরিক্ত পরিমাণে রসুন, লবণ, তেল, মরিচ দেওয়া খাবার অর্থাৎ বেশি বেশি মশলা দেওয়া খাবার খাবেন না। সবচেয়ে ভালো হলো শাকসবজি খাওয়া।

>> অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে কখনো দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকবেন না। ক্ষুধা লাগলেই পুষ্টিকর কিছু খেয়ে নেবেন।

>> ডাবের পানি পেটের গ্যাস কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। হঠাৎ পেটে গ্যাস হয়ে গেলে এক গ্লাস ডাবের পানি শরীরের ভেতর জ্বালা ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

>> এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ খেলেও এই অসুবিধা অনেকটা কমে যায়। এক গ্লাস দুধ আপনি রাতেও খেতে পারেন কিংবা সকালে নিয়ম করে খেয়ে নিবেন।

>> পরিবর্তন আনতে হবে খাওয়াদাওয়ার নিয়মেও। অসময়ে এবং অনিয়মিত খাবার গ্রহণ থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। বিশেষ করে রাতের খাবার খেতে হবে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে।

>> কখনো খাওয়ার পর পরই শুয়ে পড়বেন না। ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে ভালো উপকার পাবেন।

>> অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ধূমপান, মদ্যপান, দুধ চা, কফি এবং অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে।

>> নিজেকে অযথা স্ট্রেস থেকে দূরে রাখুন। বেশি দুশ্চিন্তা করবেন না। এতে স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। অ্যাসিডিটির সমস্যাটাও প্রকট আকার ধারণ করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ