তিন টাকার টিকেট পাঁচ, পাঁচের টিকেট ১০

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৮ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

তিন টাকার টিকেট পাঁচ, পাঁচের টিকেট ১০

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ৯ মে ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কুমিল্লা সদরে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে টিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি আইন অনুযায়ী বহির্বিভাগের টিকেটের মূল্য পাঁচ টাকা হলেও প্রতি রোগী থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের দালাল ও স্টাফদের হাতে অপমান এবং লাঞ্ছিত হতে হয় রোগীদের। গত দেড় বছরে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকেট বাবদ বাণিজ্য হয়েছে ১১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৫ টাকা।

* ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকেট কেটে ডাক্তার দেখিয়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪৮১ জন।

* ১৬ মাসে টিকেট বাবদ ১১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৫ টাকার বাণিজ্য।

* আবাসিক মেডিকেল অফিসারের ইশারাতেই চলে টিকেট বাণিজ্য। উদ্বৃত্ত টাকার ভাগ যায় তার পকেটেও।

 

রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় এ প্রতিবেদক হাজির হন কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে। লাইনে দাঁড়িয়ে ৯টা ৪৫ মিনিটে কাউন্টার থেকে নিজের নামে টিকেট সংগ্রহ করেন। টিকেটের মূল্য দিতে হয় ১০ টাকা। কেন ১০টা রাখা হলো জিজ্ঞেস করাতে কর্তব্যরত স্টাফ হৃদয় জানান, এটি সরকার নির্ধারিত। বারবার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি একই উত্তর দেন।

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল

সূত্র মতে, সরকারি এই হাসপাতালে ২০২০ সালে বহির্বিভাগে টিকেট কেটে ডাক্তার দেখান এক লাখ ৮৬ হাজার ২৭ জন রোগী। আর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে টিকেট সংগ্রহ করেন ৮ হাজার ৩১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ হাজার ১০০ জন, মার্চ মাসে ১৭ হাজার ৯৯২ জন এবং এপ্রিল মাসে ১১ হাজার ৩৩১ জন। সবমিলিয়ে গত দেড় বছরে বহির্বিভাগ থেকে টিকেট সংগ্রহ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪৮১ জন রোগী। সে হিসাবে প্রতি রোগী থেকে অতিরিক্ত পাঁচ টাকা হারে ১১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৫ টাকার আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উদ্বৃত্ত টাকার একটি অংশ আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এম এ করিম খন্দকারকে ভাগ দিতে হয়। তার ইশারা-ইঙ্গিতে প্রতিদিন রোগীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

আরএমও ডা. এম এ করিম খন্দকার বলেন, আনীত অভিযোগ সত্য নয়। বহির্বিভাগের সরকারি টিকেটের মূল্য পাঁচ টাকা। এর বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। খবর নিয়ে দেখছি কেন বেশি রাখা হয়েছে।

এদিকে, জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগেও টিকেট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি আইন অনুযায়ী ওই হাসপাতালে বহির্বিভাগের টিকেটের মূল্য তিন টাকা হলেও রোগীদের থেকে আদায় করা হচ্ছে পাঁচ টাকা।

* চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নেন ৫০০-৬০০ রোগী।

* অতিরিক্ত দুই টাকা হারে মাসে বাড়তি আয় ৩৬ হাজার টাকার বেশি।

* দুই অস্থায়ী কর্মচারীর বেতন ১০ হাজার করে। বাকি টাকায় যায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পকেটে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসিবুর রহমান বলেন, ভাঙতি টাকার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে ধরনা দিয়েও পাচ্ছি না। ফলে রোগীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। উদ্বৃত্ত টাকায় হাসপাতালের একজন অস্থায়ী আয়া ও একজন অস্থায়ী অফিস স্টাফকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে বেতন টাকা দেয়া হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রতিদিন গড়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০০-৬০০ রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। সে হিসেবে প্রতি রোগী থেকে অতিরিক্ত দুই টাকা হারে মাসে ৩৬ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে আদায় করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, উদ্বৃত্ত টাকার একটি অংশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসিবুর রহমানকে ভাগ দিতে হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই, খবর নিয়ে দেখছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর