মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হোপ হসপিটাল

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ২ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হোপ হসপিটাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৩ ৫ মে ২০২১   আপডেট: ২০:৩৪ ৫ মে ২০২১

হোপ হসপিটাল

হোপ হসপিটাল

ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় হয় তা আবারো প্রমাণ করলেন কক্সবাজারের বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী ডা. ইফতেখার মাহমুদ মিনার। প্রসূতি  মা ও শিশু মৃত্যুহার রোধের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কক্সবাজারের রামু উপজেলার চেইন্দা এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ৫০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতাল। যা পরবর্তীতে হোপ হসপিটাল (মা ও শিশু) নামে পরিচিতি লাভ করে।

এ হাসপাতালে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারিতে দুই হাজার টাকা, সিজারে ৯ হাজার টাকা ফি নেয়া হয়। যারা এ ফি পরিশোধে করতে পারে না তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া তালু কাটা, ঠোঁট কাটা ও ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়।

এ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. ইফতেখার মাহমুদ মিনার মনে করেন, সেদিনের দেখা স্বপ্ন আজকে কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে নিজস্ব অর্থায়নে এ সাসপাতালের যাত্রা শুরু করি। পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে হাসপাতালটি একটি অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

হোপ হসপিটালের কান্ট্রি ডিরেক্টর একেএম জাহেদুজ্জামান বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের পরিধি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ৫০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ায়। এর বাইরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে প্রায় তিন বছর ধরে।

হোপ হসপিটাল পরিচালনা করে হোপ ফাউন্ডেশন ফর উইমেন অ্যান্ড চিলিড্রেন্দ অব বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, হোপ হসপিটালের তত্ত্বাবধানে কক্সবাজারের উপকূলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে কুতুবদিয়া দ্বীপ, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, ঈদগাহ ও কক্সবাজার সদরে ৫৫টি মাদার বার্থ সেন্টার চালু রয়েছে। প্রতিটি সেন্টারে একজন করে প্যারামেডিক্যাল চিকিৎসক ও নার্সের অধীনে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া হোপ হসপিটালের তত্ত্বাবধানে তিন বছর মেয়াদি মিডওয়ে বা নার্স প্রশিক্ষণ কর্মশালা খোলা রয়েছে হোপ হসপিটালে। প্রতি ব্যাচে ৩০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৭০০ নারীকে ধাত্রী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

আরো জানা গেছে, হোপ হসপিটালের তত্ত্বাবধানে পুরো জেলায় ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। চিকিৎসক আছেন ৫০ জনের বেশি, শিশু ও গাইনী বিশেষজ্ঞ আছেন একাধিক। নার্সের সংখ্যা ৮০ জন। পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স, ছয়জন অ্যানেস্থেশিয়া এক্সপার্ট রয়েছেন হোপ হসপিটালে। চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এখানে রয়েছে বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা।

বিশ্ব ব্যাংক-ইউএনডিপির মতো সংস্থার অর্থায়ন রয়েছে হোপ ফাউন্ডেশন তথা হোপ হসপিটালের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে। কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রামসহ ১১টি জেলার প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে।

হোপ হসপিটালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নিম্ময় বিশ্বাস বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কাজ করছি। এখান থেকে কোনো রোগী বিনা চিকিৎসায় ফিরে যায়নি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেকোনো অভিযোগ কতৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর