ঋতুস্রাবের সময়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ ও করণীয়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ঋতুস্রাবের সময়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ ও করণীয়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১০ ৩১ মার্চ ২০২১  

ওজন বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

ওজন বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য সচেতন নারীদের ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তার শেষ থাকে না। অনেক সময় দেখা যায় আপনি নিয়মিত শরীরচর্চা করছেন, সঙ্গে সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও মেনে চলছেন। তারপরও আপনার ওজন কমার বদলে বেড়ে গেছে! নিশ্চয়ই তখন হতাশ হবেন? তবে হতাশা নয়, জানতে হবে এর পেছনের মূল কারণ ও করণীয়।

প্রতিমাসে নারীদের ঋতুস্রাবের আগে পরে এমন ঘটনা যদি আপনার কাছে পরিচিত মনে হয়, তবে জেনে রাখুন আপনি এক্ষেত্রে একা নন। এমনটা অনেকের সঙ্গেই ঘটে থাকে। জেনে রাখুন, ঋতুস্রাবের আগে পরে ওজন বেড়ে যাওয়া বেশ সাধারণ এবং স্বাভাবিক ঘটনা, যা কিছু দিনের মধ্যেই আবার কমে যায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

ঋতুস্রাবের সময় শরীরে পানি জমার কারণ

ঋতুস্রাব চক্রের সময় বাড়তি ওজনটা মূলত শরীরে জমা হওয়া পানির ওজন। ‘ইস্ট্রোজেন’ আর ‘প্রোজেস্টেরন’ এই দুই হরমোনের মাত্রা এসময় দ্রুত কমে যায়। আকস্মিক এই হরমোনগুলোর মাত্রা কমে যাওয়া থেকেই শরীর ঋতুস্রাব শুরু করার সংকেত পায়। শরীরের ‘ইলেক্ট্রোলাইট’য়ের ভারসাম্য বজায় রাখার দায়িত্ব এই দুটি হরমোনের।

তাই এদের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণেই বিভিন্ন কোষে পানি আসতে শুরু করে। বিশেষ করে স্তন আর তলপেটেই এই পানি জমতে দেখা যায় বেশি।

যেহেতু বাড়তি এই ওজন শুধুই পানি, চর্বি নয়, তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ঋতুস্রাব চক্র শেষ হলেই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হবে। তখন বাড়তি পানিও দূর হয়ে যাবে।

এছাড়াও ঋতুস্রাবের সময় অস্বাস্থ্যকর বিভিন্ন ‘কমফোর্ট ফুড’ খাওয়া হয়। এর কারণ হলো ‘প্রোজেস্টেরন’ হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া। যে কারণে খাওয়ার রুচি বেড়ে যায় প্রচণ্ড। সেসময় প্রচুর চিনি ও ক্যালরিযু্ক্ত খাবার খাওয়ার কারণে ওজন সামান্য বাড়তে পারে।

ওজন কতটা বাড়তে পারে?

এসময় একজন নারীর ওজন দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া সম্ভব। তবে ঋতুস্রাব শেষ হয়ে গেলে পুরোটাই কমে যাবে, কারণ এর সিংহভাগই পানি।

সাধারণত ঋতুস্রাব চক্র শুরু হওয়ার তিন থেকে চার দিন আগে ওজন বাড়তে শুরু করে। আর চক্র শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর ওজন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

ওজন বৃদ্ধি ছাড়াও হতাশা, মানসিক অস্বস্তি, খিটখিটে মেজাজ, দ্বিধাগ্রস্ততা, সামাজিকতা রক্ষায় অনিহা, অনিদ্রা, মাথাব্যথা, অবসাদ, ত্বকের সমস্যা, পেটব্যথা, প্রচণ্ড তৃষ্ণা, স্তনে প্রচণ্ড স্পর্শকাতরতা ইত্যাদিও দেখা দেয়, যার সবগুলোই স্বাভাবিক।

ওজন নিয়ন্ত্রণের উপায়

>> লবণ খাওয়া কমাতে হবে। কারণ লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে।

>> শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। যতটুকু সম্ভব হয় ততটুকুই করুন, তবে একেবারে বাদ দেয়া যাবে না।

>> মুখরোচক বিভিন্ন খাবার খেতে ইচ্ছা হবে, তবে সব ইচ্ছাকেই প্রশ্রয় দেয়াটা ঠিক হবে না। আবার একেবারেই খাবেন না তাও না, দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।

>> পুরো সময়টা ‍জুড়ে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এতে শরীরের ‘ইলেক্ট্রোলাইট’য়ের ভারসাম্য বজার থাকবে এবং তা শরীরের পানি জমানোর প্রবণতা কমাবে।

>>  এসময় ভোজ্য আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়ার সুযোগ না পায়। ‘বাওয়েল মুভমেন্ট’ বা অন্ত্রের কোনো সমস্যা না থাকলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ