সিজারের ৮দিন পর রোগীর পেট থেকে বেরোলো রক্ত পরিষ্কারের কাপড়!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ৩০ ১৪২৭,   ২৯ শা'বান ১৪৪২

সিজারের ৮দিন পর রোগীর পেট থেকে বেরোলো রক্ত পরিষ্কারের কাপড়!

রামিম হাসান (ঝিনাইদহ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৫ ৩১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১০:০৬ ৩১ মার্চ ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঝিনাইদহের ক্লিনিকগুলোতে যেন অপচিকিৎসা থামছেই না। ঝিনাইদহের বিজ্ঞ আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে এক রুল জারির পর জেলার সমস্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে মাত্র সদর উপজেলার ক্লিনিকগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে ৫টি উপজেলার তদন্ত কার্যক্রম। আর এরই মাঝে ঘটল মারাত্মক এক অপচিকিৎসা।

এবার পেটের মধ্যে রক্ত পরিষ্কারের কাপড় রেখেই এক সিজারিয়ান রোগীর পেট সেলাই করেছেন। ডা. আনিছুর রহমান নামে কোটচাঁদপুর শহরের সিটি ক্লিনিকের এক চিকিৎসক এ ঘটনা ঘটান।
 
পরে সিজারের ৮ দিনের মাথায় ঝিনাইদহ শহরের আল-আমিন ক্লিনিকে আবার দ্বিতীয় দফা অপারেশন করে ওই রোগীর পেটে থাকা রক্তমাখা কাপড় বের করা হয়। এ নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
 
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল গ্রামের পিকুলের মেয়ে রুনা খাতুনকে কোটচাঁদপুর শহরের সিটি ক্লিনিকে সিজারের জন্য ভর্তি করা হয়। গত ২০ মার্চ সেখানে সিজার করেন জীবননগরের (আদি বাড়ি মাগুরা) চিকিৎসক ডা. আনিছুর রহমান।

রোগীর স্বজন বাবু মিয়া জানান, কিছুদিন পর রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে ঝিনাইদহ শহরের সমতা ক্লিনিকে ডা. সোহেল আহম্মদকে দিয়ে আলট্রাসনো করা হয়। রিপোর্টে পেটের মধ্যে কাপড়ের অস্তিত্ব মেলে। দ্রুত রুনা খাতুনকে শহরের হামদহ এলাকার আল-আমিন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। গত ২৮ মার্চ রোগীকে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করেন ডা. জাহিদ। গৃহবধু রুনা খাতুনের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে দুইবার অপারেশন করায় আর্থিক ও রোগীর শরীরের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচ্য হয়ে দাড়িয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে ডা. জাহিদ জানান, রোগীর পেট থেকে রক্ত পুজ ও মফস জাতীয় জিনিস বের করা হয়। তবে রোগী এখন সুস্থ। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের আরো সতর্ক ও সচেতন না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর সিটি ক্লিনিকের মালিক জাহাঙ্গীর জানান, ডাক্তাররা তো অপারেশন করেই খালাস। কিন্তু ভুল চিকিৎসার পেক্ষিতে পরবর্তী ঝামেলা তো ক্লিনিক মালিকদেরই পোহাতে হয়। তবে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে রোগীকে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. আনিছুর রহমানের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। অফিস বন্ধ থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তিনি বলেন আগে ডা. ফাহিম উদ্দীন ও ডা. সোহেল রানা নামে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এরা হাটেবাজারে গজিয়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিকে অপারেশন করে রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল। তারা চলে যাওয়ায় হয়তো ডা. আনিছ তাদের স্থান দখল করেছে। দায়ী চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোটচাঁদপুরের সিটি ক্লিনিক সিভিল সার্জন অফিসের বন্ধ তালিকায় থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা আবার চালু করা হয়েছে। এর আগেও কোটচাঁদপুরের এই সিটি ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ডিনা খাতুন নামের এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। তখনো অপচিকিৎসার কারণে তখন প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস