শীতে সপ্তাহে কয়দিন গোসল করবেন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শীতে সপ্তাহে কয়দিন গোসল করবেন

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৩ ৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৪০ ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সপ্তাহে কয়দিন গোসল করবেন

ছবি: সপ্তাহে কয়দিন গোসল করবেন

উত্তরের হাওয়া আভাস দিচ্ছে শীতের। যতই ঠান্ডা হক না কেন এখনো জবুথবু হয়ে স্নানঘরে ঢোকার মতো ঠান্ডা পড়ে নি। তবে শীত এলেই সবার যেন গোসলে অনীহা দেখা দেয়। কেউ কেউ তো দুই তিনদিনে একবার গোসল করেন।  

যদিও গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়ায় আমাদের গোসল একরকম রোজকার অভ্যাসের মতো ব্যাপার দাঁড়রিয়েছ। গরমের সময়টাতে তো দিনে দুই তিনবারও গোসল করেন কেউ কেউ। শীতে একেবারেই বিপরীত। তবে জানেন কি? সপ্তাহে কয়দিন গোসল করা নিরাপদ। চলুন জেনে নেয়া যাক শীত হোক কিংবা গরম সপ্তাহে কয়দিন গোসল করবেন- 

'গুসল' একটি আরবি শব্দ। নামাজ ও কোরআন পাঠের মতো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেবার আগে মুসলমান নারী-পুরুষের বাধ্যতামূলকভাবে পুরো শরীর পবিত্র করার একটি প্রক্রিয়া। অন্যান্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গেও কোনো না কোনোভাবে গোসলের সংযোগ আছে। বাংলা ভাষায় গোসলের সমার্থক শব্দ স্নান বা অবগাহন। 

আরো পড়ুন: গোসলে গরম নাকি ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন?

২০১৯ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল প্রকাশিত এক জার্নালে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই তৃতীয়াংশ নাগরিক প্রতিদিন গোসল করেন। অস্ট্রেলিয়ার ৮০ শতাংশ বাসিন্দা প্রতিদিন গোসল করেন, কিন্তু চীনের অর্ধেক জনগোষ্ঠী সপ্তাহে মাত্র দুইবার গোসল করেন।

জানেন কি? মানুষ কেন গোসল করে। এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তরে হয়ত বেশিরভাগ মানুষ বলবেন, এটি স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক বলে তারা বিশ্বাস করেন। তবে সেই সঙ্গে শরীরের ময়লা, ও দুর্গন্ধ দূর করা, সবগুলো স্নায়ু একসঙ্গে সজাগ হয়ে ওঠাসহ নানা করণ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।মজার ব্যাপার হচ্ছে, কেবল মানুষ নয়, পৃথিবীর প্রায় সকল প্রাণী গোসল করে। ডার্মাটোলজিস্ট ডা. নাহিদ সুলতানা বলেছেন, গোসল সপ্তাহে কতদিন করতে হবে তার নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। 

আরো পড়ুন: ঘন ঘন জ্বরঠোসা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

এটি নির্ধারিত হতে হবে একজন মানুষের শারীরিক গঠন, বয়স, পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী। ডা. সুলতানা বলেন, ‘স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর ত্বকে সাধারণত নির্দিষ্ট স্তরের তেল, ভালো ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য মাইক্রো-অরগার্নিজমের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থাকা জরুরি। ভালো ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রোটিন উৎপাদনে সাহায্য করে।’

তিনি বলেছেন, কিন্তু বেশি গোসল করলে সেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যে কারণে বেশিরভাগ মানুষের জন্যই সপ্তাহে কয়েকবার গোসল যথেষ্ট। সবচেয়ে ভালো হয় একদিন পর একদিন গোসল করতে পারলে।

বেশি গরম পানিতে গোসল করলে, বেশি ক্ষারজাতীয় সাবানের অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরে তেল ও ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার সংক্ষিপ্ত গোসল হতে পারে। সেক্ষেত্রে বগল ও কুচকি পরিষ্কার করে অল্প পানিতে অল্প সময় গোসল যথেষ্ট হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে/এনকে