ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ স্বাস্থ্যকথা ]

ট্রান্স ফ্যাট: ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য!

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:০৮, ২৯ অক্টোবর ২০২০
ট্রান্স ফ্যাট: ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য!
ছবি: এসব ভাজাপোড়া খাবারই শরীরের বিভিন্ন রোগের কারণ

শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট এক নিরব ঘাতক। যা খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এতে করে হৃদরোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। যার মধ্যে ৪.৪১ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ। এর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ।   

শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস হল পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও। যা আমাদের দেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে সুপরিচিত। এই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল (খারাপ কোলেস্টেরল) বৃদ্ধি করে এবং একই সঙ্গে এইচডিএল কোলেস্টেরল (ভালো কোলেস্টেরল) কমিয়ে ফেলে। এর ফলে হার্টের ধমনীতে ব্লক তৈরির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমন কি হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

অনেকটা না জেনেই আমরা ট্রান্সফ্যাট নামক বিষ গ্রহণ করছি। সম্প্রতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় গবেষকগণ ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডসমূহের নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন।

আরো পড়ুন: শীতকালে লিভার সুস্থ রাখবে এসব খাবার   

প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা ডব্লিউএইচও’র সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। এই পিএইচও বা ডালডা সাধারণত ভাজা পোড়া, স্ন্যাক্স ও বেকারিপণ্য তৈরি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সড়কসংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া একই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার ব্যবহারের কারণেও খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট সৃষ্টি হয়। 

সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে। যারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ট্রান্সফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো আইন বা নীতি প্রণয়ন হয়নি। 

আরো পড়ুন: খাবারের স্বাদ-মান ঠিক রাখতে যেভাবে রান্না করবেন 

তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) অতিসম্প্রতি সকল ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

ট্রান্সফ্যাটমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ অনুযায়ী সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।  সচেতনতা ও জনমত বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হার্ট হেলথ এলার্ট বিডি শীর্ষক সুসংগঠিত একটি ক্যাম্পেইনও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেএসকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!