অস্টিওপোরোসিস নারীদের যে কারণে বেশি হয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

অস্টিওপোরোসিস নারীদের যে কারণে বেশি হয়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৩ ২০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:০০ ২০ অক্টোবর ২০২০

ছবি: নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

ছবি: নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

অস্টিওপোরোসিস হচ্ছে হাড়ের রোগ। মূলত হাড়ক্ষয়কেই বল হয়। নানা অনিয়মই এই রোগের জন্য দায়ী। ঘণ্টার পর ঘন্টা এক জায়গায় বসে কাজ করেন অনেকে। আবার কেউ আছেন দাঁড়িয়েই থাকেন দিনের বেশিরভাগ সময়। এছাড়া অনিয়মিত জীবনযাপনও এর জন্য অনেকখানি দায়ী। 

অনিয়ম আর অত্যাচারে শরীরের সহ্যক্ষমতা যখন পার হয়ে যাচ্ছে, আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে একের পর এক রোগ। এর মধ্যে অস্টিওপোরোসিস রোগ মানছে না বয়সের বাধা। সব বয়সের মানুষই এই রোগে ভুগছেন। এটা একটা হাড়ের রোগ যাতে শরীরের হাড় আক্রান্ত হয়। ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে হাড় আর ক্রমশ তা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

পরিসংখ্যান বলছে এই রোগে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হন। আচ্ছা চলুন তবে জেনে নেয়া যাক অস্টিওপোরোসিস কি? কেন হয়? লক্ষণ এবং প্রতিকার বা চিকিৎসা কি? 

অস্টিওপোরোসিস কি এবং কেন হয় 
শুরুতেই জেনেছেন এটি একটি হাড়ের রোগ। যাতে হাড় ভঙ্গুর হতে দুর্বল হতে থাকে। সাধারণ অবস্থায় আমাদের শরীরে সবসময় নতুন টিস্যু তৈরি হতে থাকে যা পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু কে সরিয়ে সেই জায়গা কে অক্ষত আর ঠিক রাখে। যে কারণে আমাদের শরীর এর কাঠামো ঠিক থাকে। ২৫ বছর বয়স অব্দি এই নতুন টিস্যু তৈরির কাজ চলতে থাকে যা ২৫ বছরে সবচেয়ে বেশি হয়। ৪০ বছর বা তার পর থেকে এই টিস্যু তৈরির কাজ কম হতে থাকে। 

ফলে কোনো হাড়ের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজন মত টিস্যুর যোগান শরীর নাও দিতে পারে। সোজা কথায় টিস্যু উৎপাদনের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া টিস্যুর জায়গা ভরাট না হওয়ার কারণে আমাদের শরীরের হাড় দুর্বল হতে থাকে। হাড় ক্ষয় পেতে থাকে। একসময় অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। আগে থেকে এর বোঝার সেভাবে উপায় নেই। অল্প কোনো চোট, বা ব্যথায় কোনো কারণে এক্স রে করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। 

আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থায় অবসাদ কাটাতে ওষুধ খাবেন নাকি খাবেন না

অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ ও উপসর্গ 
> অস্থি ভংগুর হয়ে যায়,পুরুত্ব কমতে থাকে। 
> পেশির শক্তি কমতে থাকে।
> পিঠের পিছনে ব্যথা অনুভব হয়।
> অস্থি তে ব্যথা অনুভব হয়।

প্রতিকারের উপায় 
এর তেমন কোনো প্রতিকার নেই। তবে নিজের লাইফস্টাইল চেঞ্জ করলে কিছুটা সুফল মিলতে পারে। একটানা এক জায়গায় বসে থেকে কাজ, ঘাড় নিচু করে ফোনে বা কম্পিউটারে বসে থাকা কখনোই আপনার জন্যে ভালো নয়। অতিরিক্ত ওজনও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। তামাক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকলেই ভালো। ফাস্ট ফুড বা নেশার মত জিনিস আপনার বাকি অর্গান গুলো কে নষ্ট করলে তাদেরও খাবার থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ নেয়ার ক্ষমতা কমতে থাকে যার প্রভাব পড়ে আপনার হাড়ের উপরেও।

নারীরা কেন বেশি আক্রান্ত হন
কথায় বলে রোগ কখনো মুখ দেখে আসে না। তাই পুরুষ বা মহিলা, উভয়কেই সাবধান থাকতে হবে এর ব্যাপারে। যে কারুরই হতে পারে কিন্তু চিকিৎসক দের একাংশ মনে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি হোয়ার থেকে অনেক সময় নারীরা এই রোগের শিকার বেশি হন। সাধারণত এই ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত যে জায়গা গুলো হয়, তা হলো কোমর, কোমর এর নিচে, কব্জি, হাঁটু এবং শিরদাঁড়া তে।  

চিকিৎসা 
ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি থেকে হতে পারে এই রোগ। যার জন্যে ক্যালসিয়াম এর দরকার অনুযায়ী তা খাওয়া তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো। একই সঙ্গে হাড়ের প্রয়োজনীয় এবং শরীরের আবশ্যক খনিজ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাওয়া। যেহেতু এটি একমুখী প্রক্রিয়া তাই আশা করা যায় না যে, চিকিৎসা আপনাকে একদম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। তাই অতিরিক্ত ব্যথার ক্ষেত্রে পেইনকিলার ভরসা এবং দরকার প্রয়োজনীয় ওষুধ। যা আপনার হাড় ক্ষয়িভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে মন্থর করবে। তবে এ সবই আপনার জানার জন্যে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই নিজের রোগের চিকিৎসা করুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে