এসব খাবার খেলে সত্যিই কি জমজ সন্তান হয়!

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

এসব খাবার খেলে সত্যিই কি জমজ সন্তান হয়!

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১০ ১৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:০২ ১৫ অক্টোবর ২০২০

ছবি: জমজ শিশু

ছবি: জমজ শিশু

 ঘরের নতুন সদস্য এমনিতেই খুশি নিয়ে আসে। তবে যদি এক সঙ্গে দুজন নতুন সদস্যের আগমন হয়। তাহলে খুশিও বেড়ে যায় বহুগুণে। সবাই কমবেশি জমজ সন্তান পছন্দ করেন। এজন্য কতো কিছুই না করে থাকেন। জমজ ফল থেকে শুরু করে জমজ সবজি খান। 

তবে এতে কি সত্যিই কোনো কাজে দেয়? না, জমজ ফল খেলেই জমজ সন্তান হবে এটি পুরোটাই ভুল ধারণা। দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক কুসংস্কার প্রচলিত যা বিশ্বাস না করলেও নিজের অজান্তেই কেউ কেউ মেনে চলেন। তবে খাবারের এর উপর কোনো প্রভাব নেই।

জমজ বাচ্চা হওয়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো- নারীর একই ঋতুচক্রে একই সঙ্গে দু’টি ডিম্বাণু নির্গত হয়। যদি এই দু’টি ডিম্বাণু আলাদা আলাদা দু’টি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তাহলে জমজ সন্তানের জন্ম হতে পারে। এই নিষেকের ফলে যে শিশুদের জন্ম হয়, তাদের ‘মোনোজাইগোটিক টুইন’ বলা হয়। এদের গায়ের রং, চোখের মণির রং, রক্তের বৈশিষ্ট্য এক হতে পারে, আলাদাও হতে পারে। 

এছাড়া অপর একটি প্রক্রিয়ায়ও জমজ সন্তান গর্ভে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিম্বাশয় থেকে একটি মাত্র ডিম্বাণু নির্গত হয়ে শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। কিন্তু পরে কোষসংখ্যা বৃদ্ধির জটিল ক্রিয়ায় তার বিভাজন ঘটে এবং জমজ ভ্রূণে পরিণত হয়। এদের ‘ডাইজাইগোটিক টুইন’ বলা হয়। এদের চেহারা, রক্তের গ্রুপ এমনকি চরিত্রবৈশিষ্ট্যও হুবহু হয়ে থাকে। সুতরাং জোড়া কলা বা জোড়া ফল খাওয়ার সঙ্গে জমজ বাচ্চা হওয়ার কোনো সম্পর্কই নেই।

এজন্য গর্ভধারণের আগে সুষম খাবার, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন উভয়ের জন্য আবশ্যক। গবেষণায় দেখা যায় যে, লম্বা ও ভারী নারীদের বেঁটে এবং পাতলা নারীদের তুলনায় জমজ সন্তান জন্ম দেয়ার সুযোগ বেশি। যারা কঠোর ডায়েটে আছেন তাদের তুলনায় ভালো-পুষ্টিকর ডায়েট করছেন।  এমন নারীদের জমজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আরো পড়ুন: শিশুর দাঁতে ক্যাভিটি প্রতিরোধের উপায়  

তবে কয়েকটি উপায় মানতে পারেন। এতে করে প্রাকৃতিকভাবেই জমজ সন্তান হতে পারে। 

গর্ভধারণের মধ্যে ব্যবধান 
একাধিক গর্ভাবস্থা জমজ থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে দুটি গর্ভধারণের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যবধান এক্ষেত্রে কাজে নাও লাগতে পারে।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়কালে গর্ভধারণ 
প্রোল্যাক্টিন একটি উপাদান যা আপনার শরীরের দুধ খাওয়ানোর সময় উৎপাদিত হয়। এই উপাদানটি গর্ভবতী হওয়ার এবং আপনার সন্তান ধারণ করার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য পরিচিত।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল নেয়া শেষ করা 
যখন আপনি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলগুলো গ্রহণ বন্ধ করেন, তখন আপনার শরীর অনিবার্যভাবে হরমোন উচ্চ পরিমাণে উৎপাদন শুরু করে । এই পর্যায়ে, যখন আপনার শরীর তার স্বাভাবিক ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, তখন আপনার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

দুগ্ধজাত পণ্য 
গরুর দুধ এবং দুধ থেকে তৈরি অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যগুলোতে বেশিরভাগ বৃদ্ধির হরমোন পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি জমজ সন্তান ধারণ করতে চান তবে এটি ব্যবহার করবেন । 

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার
যেহেতু দস্তা-সমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণু উত্পাদনকে ত্বরান্বিত করে, তাই আপনার সঙ্গীর সেগুলোকে আরও বেশি খাওয়া উচিত। ফেনসিডেশন প্রক্রিয়ায় জমজ ধারনে সাহায্য করার উচ্চ সম্ভাবনা আছে। 

আরো পড়ুন: আর্থ্রাইটিস কি, লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায় 

প্রোটিন
যেহেতু আপনার জমজ সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা অনেকগুলো হাইপারভুলেশনের উপর নির্ভর করে, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার একে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে। শস্য, টফু, সোয়া আইসোভ্লাভোনস এবং বিশেষ করে ইয়ামগুলো আপনার ডিম্বাশয়গুলোকে হাইপার-উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে, যার ফলে জমজ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় । 

ফোলিক অ্যাসিড
যদিও বিতর্কিত, তবুও এই পদ্ধতিটি জমজ ধারণ করার চেষ্টা করার সময় কিছু ভালো ফলাফল দেখিয়েছে। এটা স্নায়ু টিউবের ত্রুটি প্রতিরোধ করতে পরিচিত, তাই এর সম্পূরক নিতে পরামর্শ দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে