ছাগলনাইয়া হাসপাতালের সাড়া জাগানো সাফল্য

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ছাগলনাইয়া হাসপাতালের সাড়া জাগানো সাফল্য

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৩ ৬ অক্টোবর ২০২০  

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেনী

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেনী

অক্টোবরের প্রথম তিনদিনে সিজার ছাড়াই ১২ জন প্রসূতির ডেলিভারি করে সাড়া জাগিয়েছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ খবর জানতে পেরে উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির দিকে ঝুঁকছেন প্রসূতিরা। এদিকে, প্রসূতিদের বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা চালু করতে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন। তিনি জানান, ডায়াথামিন মেশিন ও অপারেশন থিয়েটারের অবকাঠামোগত সংস্কার হলে কয়েকদিনের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রিজারিন বিভাগ চালু হবে।

জানা গেছে, ফেনীর ছাগলনাইয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে প্রসূতি ও অন্যান্য রোগীরা সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকমুখী হয়ে পড়েন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান বৃদ্ধি ও রোগীদের ফিরিয়ে আনতেই এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরের প্রথম তিনদিনে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ প্রসূতির সিজার ছাড়াই  ডেলিভারি করা হয়েছে। এমন ফলাফলে সন্তুষ্ট রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, করোনা দুর্যোগের মধ্যেও ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, ফেনী সদর উপজেলা ছাড়াও চট্টগ্রামের মিরসরারই, উত্তর ফটিকছড়ি, ভুজপুর, খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে প্রতিদিন ইমার্জেন্সি, ইনডোর ও আউটডোর মিলে গড়ে চার শতাধিক রোগী ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, উপজেলা হাসপাতালে এএনসি প্যাকেজের অধীনে একজন গাইনি কনসালট্যান্ট, একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন সিস্টারের সমন্বয়ে প্রসূতিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মোবাইলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেক প্রসূতিকে চেক-আপের পর বিনামূল্যে প্রতি দফায় ৪৫ দিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এসব সেবা অব্যাহত থাকবে।

ডা. শিহাব উদ্দিন বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি বিভাগ চালু হবে। এতে প্রসূতিদের জটিল অপারেশন ও সিজার ছাড়াই ডেলিভারি করা আরো সহজ হবে। এসব সেবার মান ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হাসপাতালে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ছাগলনাইয়ার ইউএনও সাজিয়া তাহের বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি ইউপি পর্যায়েও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের মাধ্যমে প্রসূতিদের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে মাত্র তিনদিনে সিজার ছাড়াই ১২ জন প্রসূতির নিরাপদ ডেলিভারির বিষয়টি প্রশংসিত হয়েছে। এ অর্জন ধরে রেখে জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর