নামেই চলছে কুষ্ঠ হাসপাতাল

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নামেই চলছে কুষ্ঠ হাসপাতাল

নীলফামারী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪১ ২ অক্টোবর ২০২০  

জনবল সংকটে ভুগছে নীলফামারী কুষ্ঠ হাসপাতাল

জনবল সংকটে ভুগছে নীলফামারী কুষ্ঠ হাসপাতাল

উত্তরাঞ্চলের কুষ্ঠরোগীদের সেবায় নীলফামারী সদরের নটখানা এলাকায় ১৯৬৫ সালে ৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ২০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল। নীলফামারীসহ আশপাশের আট জেলার কুষ্ঠ রোগীরা এ হাসপাতালে সেবা নিতেন। বর্হিবিভাগে লেগে থাকতো হাজারো রোগীর ভিড়।

কিন্তু সম্প্রতি জনবল সঙ্কটে মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্ধশতাব্দীর প্রাচীন হাসপাতালটি। অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালটির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন রোগীরা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ জন রোগী হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। আর ইনডোরে গড়ে ১০-১১ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে ৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট মঞ্জুরিকৃত পদটি শূন্য রয়েছে। মেডিকেল অফিসারের ৩টি পদে কেউ নেই। লোকবল নেই একটি মাত্র কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পদেও। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদটি শূন্য থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ বন্ধ আছে।

এছাড়া হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ রয়েছে ১৫টি। তাদের মধ্যে ৮ জন কর্মরত থাকলেও ৭ জনকেই প্রেষণে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরো কিছু কর্মচারিকে প্রেষণে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে ৭ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি দিয়ে।

নীলফামারী কুষ্ঠ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কবির হোসেন বলেন, আগে আমরা তিনজন কাজ করেও সামাল দিতে পারতাম না। আর এখন তিনজনের কাজ আমাকে একাই করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মচারি বলেন, হাসপতালে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা একেবারেই বন্ধ। জনবল না থাকায় ইনডোরের রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাওয়া-দাওয়ার কোনো সমস্যা নেই। তবে ডাক্তার-নার্সের সংখ্যা কম থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না তারা।

নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান মমতাজ আলী প্রামাণিকের অভিযোগ, নামেই চলছে কুষ্ঠ হাসপাতালটির কার্যক্রম। জনবলের অভাবে রোগীরা সেবা পাচ্ছে না।

নীলফামারী কুষ্ঠ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ভির্জিনিয়া শুক্লা বিশ্বাস বলেন, আমি সম্প্রতি এই হাসপাতলে প্রেষণে যোগদান করেছি। তাই এসব বিষয়ে কিছুই জানি না।

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট-এর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আউটডোর ও ইনডোরে রোগীর সংখ্যা কম থাকায় কিছু জনবল সরিয়ে জেলার অন্যান্য হাসপাতালে প্রেষণে রাখা হয়েছে। তবে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়লে তাদের পুনরায় কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হবে।

নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, আমি সদ্য এ জেলার দায়িত্ব পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে সমস্যার সমাধান করা হবে। জনবল সঙ্কট থাকলে তা কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর