আগামী দশ বছরে আড়াই কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে হার্ট অ্যাটাক

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গবেষণার তথ্য

আগামী দশ বছরে আড়াই কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে হার্ট অ্যাটাক

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৫ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:১৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: অনেক কারণে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

ছবি: অনেক কারণে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

সারাবিশ্বে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে পালন করা হয় মূলত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। অনেকেই মনে করেন হার্ট দিবস আবার কি জন্য দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে,  প্রচার করে এ রকম কোনো দিবস পালন করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সম্ভব। 

মহামারি আবহাওয়ায় কয়েকমাস ধরেই অন্যান্য অসুখ হেলাফেলা করছেন। এতে করে আচমকা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এছাড়াও দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা এর অন্যতম কারণগুলোর একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এক সমীক্ষা চালান। সেখানে তারা দেখেন, ২০৩০ সালে বছরে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যু হতে পারে। 

ল্যান্সেট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে আমাদের দেশে ২১ লক্ষ মানুষ হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ হারিয়েছে। অথচ হার্টের অসুখ নিরাময়ের যাবতীয় চিকিৎসা এখন বিজ্ঞানীদের হাতের মুঠোয়। তবে তার জন্য আপনাকে সঠিক সময়ে চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছতে হবে।   

বিভিন্ন কারণে হার্টের রোগের প্রবণতা বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, দুশ্চিন্তা। তবে জীবনযাত্রার কারণে হার্টের অসুখ কার্ডিয়োভাসকিউলার ডিজিজে ভুগছে বিশ্বের নানা দেশের মানুষ। মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করতেই ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন’ ও ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরো পড়ুন: গবেষণা: নারীদের চেয়ে পুরুষের দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন’-এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনি বায়েস ডি ল্যুনার উদ্যোগে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবার এই দিবস পালন শুরু হয়। ২০০০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ‘হার্ট ডে’ পালন করা হয়। এরপর ২০১২ সাল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর দিনটি বেছে নেয়া হয়েছে।

এই বছরের ‘হার্ট ডে’-র থিম ‘ইউজ টু বিট’। অর্থাৎ হৃদযন্ত্রকে স্পন্দিত হতে দিন। নিয়ম করে হাঁটা ও শরীরচর্চায় হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকবে। ওজন ঠিক রেখে মন ভালো রাখলে হার্ট ভালো থাকে। আবার জেনে নিন হার্ট ভালো রাখতে আপনার করণীয়- 

> প্রথমেই আপনার খাবার দাবারের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। ফাস্ট ফুড খাবার বাদ দিন। সেই সঙ্গে টাটকা শাকসবজি, ডাল, গম, চাল, ওটস খেতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণে। মাছ ও মুরগির মাংস অল্প তেলে রান্না করে খেতে হবে।    

> বেশি লবণ খাওয়া হার্টের জন্য ক্ষতিকর। দিনে দুই দশমিক পাঁচ গ্রামের বেশি লবণ খাবেন না। 

> চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টি খাবেন না। চা কফি দিনে একবারের বেশি না খাওয়াই ভালো। 

> অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এলপিজি-র যত্ন নিন। এল মানে লিপিড, পি- প্রেশার আর জি গ্লুকোজ। এই সব নিয়ন্ত্রণে না রাখলেই বিপদ। 

> সপ্তাহে ৫ দিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করতেই হবে।  

> ধূমপান এবং সব ধরনের নেশা থেকে দূরে রাখুন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে