দিন দিন মোটা হচ্ছেন, মারাত্মক এই রোগে ভুগছেন না তো?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দিন দিন মোটা হচ্ছেন, মারাত্মক এই রোগে ভুগছেন না তো?

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৫ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: শরীরের ওজন বৃদ্ধি মারাত্মক রোগের লক্ষণ

ছবি: শরীরের ওজন বৃদ্ধি মারাত্মক রোগের লক্ষণ

আধুনিক বিশ্বায়নের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সবারই জীবনে এসেছে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। যার ফলে দিন দিন বেড়ে চলেছে রোগের প্রকোপ।বিশেষ করে নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন জটিল সব রোগে। হৃদরোগ, ক্যান্সার, ফুসফুসের সংক্রমণ, ডায়াবেটিস তো রয়েছেই।  

আর অনিয়মিত জীবনযাপনের জন্য বাড়ছে শরীরের ওজন। তবে শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া শুধু যে শরীরের চর্বি বাড়া তা কিন্তু নয়। আরো মারাত্মক সব রোগের কারণ। এরমধ্যে অন্যতম পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস। চিকিৎসকেরা একে ওভারিয়ান সিস্ট হিসেবেও বলে থাকেন। 

তবে প্রথম দিকে নারীরা একে খুব হালকা ভাবেই নেন। এই সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। এতে করে দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। ২০১২ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১১৬ মিলিয়ন মহিলা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম দ্বারা আক্রান্ত। ভারতবর্ষের প্রায় ১০ শতাংশ মহিলা এই রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ জন নারীর মধ্যে একজন এই সমস্যায় ভুগছেন।চলুন জেনে নেয়া যাক এই রোগ সম্পর্কে-  

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) কী?  

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক নারীর ডিম্বাশয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ডিম্বাণু থাকে। যা বের হতে পারে না। সেই ডিম্বাণুর ঘরগুলোকে অনেকটা সিস্টের মতো দেখায়। একেই বলে পলিসিস্টিক ওভারি। আর ডিম্বাশয়ের এই অবস্থানের কারণে শারীরিক যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, তা হলো  পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। এই রোগের ফলে মেয়েদের শরীরে পুরুষ হরমোনের আধিক্য ঘটতে থাকে। যার ফলে শরীরের নানা অংশে অবাঞ্ছিত রোম গজিয়ে ওঠে। এটি মূলত প্রজনন সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে এটি একটি কারণ হতে পারে। সাধারণত ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।  

পিসিওএস হওয়ার কারণ কী?  

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস কেন হয় তার সঠিক কারণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কারণ হিসেবে তিনটি দিক উল্লেখ  করেছেন বিশেষজ্ঞরা।  

> জিনগত কারণ। একজন নারীর পিসিওএস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় যদি তার পরিবারের কারোর থেকে থাকে। আবার কেউ যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকেন। তাহলেও পলিসিস্টিক ওভারি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। 

> পরিবেশগত কারণ। 

> অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণেও হতে পারে। যেমন -  অনিয়মিত খাদ্যাভাস, ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক, ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া, উশৃঙ্খল জীবনযাপন করা এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার মতো অভ্যাসের ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

এ রোগের লক্ষণ 

> অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ও মোটা হয়ে যাওয়া। এই উপসর্গ প্রথম প্রথম দেখা যায় না। পরের দিকে প্রকাশিত হয় 
> ঋতুস্রাবের সমস্যা, যেমন - অনিয়মিত পিরিয়ড বা পিরিয়ড না হওয়া 
> ব্লাড ক্লট
> মাথার সামনের অংশ থেকে চুল পড়ে যাওয়া 
> মুখে অযাচিত চুলের বৃদ্ধি
> মুখে অতিরিক্ত ব্রণ হওয়া 

এই রোগের ঝুঁকি 

বন্ধ্যাত্ব 
গর্ভাবস্থায় সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। টাইপ টু ডায়াবিটিস দেখা দেয়। 
লিভারের সমস্যা 
> কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়ে। 
> নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা। 
> জরায়ু থেকে রক্তপাত 
> অকাল জন্ম 
স্তন ক্যান্সার 
এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার

এই রোগ নির্ণয় করা হয় যেভাবে-

লক্ষণগুলোর উপর নির্ভর করে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। এছাড়া, রক্ত পরীক্ষা এবং টেস্টোস্টেরন, প্রোল্যাক্টিন, ট্রাইগ্লিসারাইডস, কোলেস্টেরল, থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (টিএসএইচ) এবং ইনসুলিনের মাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমেও নির্ণয় করা হয়।

এ রোগের চিকিৎসা

চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে যদি এই সমস্যা ধরা পড়ে তবে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়। তবে ওষুধ প্রয়োগের আগে চিকিৎসকেরা রোগীর ওজন কমানোর বিষয়ে জোর দেন। পাশাপাশি সুষম খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম ও ধূমপান ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন। যেহেতু ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের কারণে বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি হয়, তাই যারা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন তাদের ক্ষেত্রে একটি ছোট্ট অস্ত্রোপচার করা হয় যার নাম ল্যাপারোস্কপি ওভারিয়ান ড্রিলিং।

প্রতিরোধের উপায়

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করুন। জাঙ্ক ফুড ও ফাস্টফুড খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দিতে হবে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান। জল প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। 
নিয়মিত শরীরচর্চা মাস্ট। 
নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। 
ধূমপান, মদ্যপান, চা ও কফি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। 
উশৃঙ্খল জীবনযাপন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

অহেতুক ভয় পাবেন না। বিচলিত না হয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করান। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। অবহেলা করলে শুধুমাত্র বন্ধ্যাত্বই নয়। অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই নিজের প্রতি আরো বেশি সতর্ক এবং যত্নবান হোন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে