দেড় বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দেড় বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৭ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইল

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো নির্মাণ ও হাসপাতালের পুরোনো একতলা ভবন সংস্কারে দেড় বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি দীর্ঘ ১৫ বছরেও। ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরোনো ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন চালুর বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে উপজেলাবাসী।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে বাসাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বছরের ১০ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ ও হাসপাতালের পুরোনো একতলা ভবন সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোনার বাংলা প্রকৌশল সংস্থা। ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বেশিরভাগ জানালা ভেঙে গেছে। কিছু কিছু কক্ষ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অপর দিকে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও প্লাস্টার না করায় দেয়ালে শ্যাওলা পড়েছে। মানুষের যাতায়াত না থাকায় ভবনের চারপাশে ঝোপঝাড় জন্ম নিয়েছে।

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো একতলা ভবন

রোকেয়া আক্তার নামের এক রোগী বলেন, নানা সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও ডাক্তার দেখানোর পর প্যারাসিটামল ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ছাড়া আর কিছুই দেয়া হয় না। জটির কোনো রোগ নিয়ে কেউ এলে চিকিৎসা না দিয়ে সরাসরি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোগীর স্বজন সোনা মিয়া বলেন, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরের পরিবেশ ভালো নয়, ভেতরের পরিবেশ আরো খারাপ। টয়লেট ব্যবহার করা যায় না। স্যাঁতসেঁতে ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। নতুন ভবনটি চালু হলে আমরা কিছু সুযোগ সুবিধা পেতাম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ফিরোজুর রহমান বলেন, ২০১১ সালের পর নতুন ভবনের কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী নোটিশের জবাবও দিয়েছিলেন। তবে নোটিশ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আমার কাছে নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৮০ ভাগ কাজ শেষ করার দাবি করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ভবনের শুধু স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন ভবন চালু হলেই বাসাইলবাসীকে ৫০ শয্যার সুযোগ-সুবিধা দেয়া যাবে।

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন

বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, উপজেলা হাসপাতালের নতুন ভবন চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর একাধিক লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম সংসদে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। এরপরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হলে বাসাইলের মানুষ হাতের কাছেই আধুনিক চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭৫ ভাগ কাজ শেষে হয়েছে। ২০১১ সালের মাঝামাঝি কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ৬ মাস আগে আমাদের নতুন চিফ ইঞ্জিনিয়ার এসেছেন। বিষয়টি তিনি জানেন। আগের টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোনার বাংলা প্রকৌশল সংস্থার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি ছিলো তার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ভবনের ৯৮ ভাগ কাজ শেষ করেছি। সোনার বাংলার আর কোন কাজ নেই। ২০০৬ সালে কাজটি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এরপর পুনরায় ফ্লোর ভেঙে টাইলস করার জন্য আলাদা টেন্ডার হয়েছিলো। কিন্তু নতুন রেট না দেয়ায় আর কোন কাজ করা হয়নি।

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন

তবে এ বিষয়ে মেসার্স সোনার বাংলা প্রকৌশল সংস্থার ম্যানেজার মো. মেরাজ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমি যোগদানের পর বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কোনো ত্রুটি নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আমরা এখনো বুঝে পাইনি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর আমাকে এক বছরের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান দেবে বলে জানিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর