নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল, বাস্তবে নেই

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল, বাস্তবে নেই

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামালপুর

বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামালপুর

পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। শুধু নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল, বাস্তবে নেই। উদ্বোধনের পাঁচ বছরেও চালু হয়নি কোনো কার্যক্রম। ছোটখাটো সমস্যার জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে জেলা হাসপাতাল কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। এতে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

বকশীগঞ্জে তিন লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়া ভৌগোলিক কারণে শ্রীবরদী, রাজিবপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৪-৫টি ইউপির মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ রোগী এখানে আসে। অথচ তাদের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাজ শেষে ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর পাঁচ বছর পার হলেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোনো কার্যক্রম। দেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা। বহির্বিভাগ চালু করতে যে জনবল ও সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা এখানে নেই। যেকোনো রোগী এলেই জরুরি বিভাগ থেকে স্থানান্তর করা হয় জামালপুর মেডিকেল কলেজ কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রোগীদের আসা-যাওয়া আর পরামর্শ নেয়াই এ হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ২৬ জন। এর মধ্যে ২১টি পদই শূন্য। সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু, নাক-কান-গলা, গাইনি, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, অর্থোপেডিকসের কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। এছাড়া অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ফার্মাসিস্ট, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, কার্ডিওগ্রাফার, ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্ট, ওয়ার্ডবয়, মালি, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি বিকল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। যেটি আছে সেটিও প্রায় নষ্টের পথে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী বলেন, চিকিৎসকসহ জনবল সংকট এবং অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এসব সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই সমাধান আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর