কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭,   ১১ সফর ১৪৪২

কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক-রোগীদের আনাগোনা

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক-রোগীদের আনাগোনা

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসক, কর্মচারী, রোগীদের পদচারণায় মুখর থাকে হাসপাতাল চত্বর। ৫ এপ্রিল জামালপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর কঠোর পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন। চিকিৎসক-নার্সদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনা মহামারির পাঁচ মাসে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বর্হিবিভাগে রোগীর সংখ্যা কমলেও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে রোগীদের আনাগোনা। করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে হাসপাতালে আসতে শুরু করেছে রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে জানুয়ারি মাসে রোগীর সংখ্যা ছিলো ২৪ হাজার ৭৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৩৭২ জনে। মার্চ মাসে রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৫২ জনে। এরপর থেকে প্রায় পাঁচ মাস বর্হিবিভাগে রোগী ছিলই না বলা যায়।

মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউপির বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, মে মাসের শুরুর দিকে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। করোনাভাইরাসের কারণে তখন কোনো ডাক্তার সাধারণ রোগী দেখছিলেন না। আজ হাসপাতালে ডাক্তার পেয়ে বেশ ভাল লাগলো।

এদিকে, সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিদিন করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহও করা হচ্ছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে। একইসঙ্গে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে দেয়া হচ্ছে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট।

হাসপাতালের আরএমও ডা. উত্তম কুমার সরকার জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ডাক্তারদের উপস্থিতি শতভাগ। প্রতিদিনই সব ধরনের রোগী আসছে। তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরাও। বর্হিবিভাগের পাশাপাশি জরুরি বিভাগেও নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, করোন মহামারিতেও হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বভাবিক ছিলো। সাধারণ রোগী কম থাকায় চিকিৎসকরা করোনা রোগীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে জরুরি বিভাগে প্রতিদিন আড়াইশ থেকে তিনশ রোগী ভর্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনার সময় আমাদের অনেক চিকিৎসক, নার্স আক্রান্ত হওয়ায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হাসপাতালে সব বিভাগেই শতভাগ চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর