তিন ভাইয়ের করোনা হাসপাতালে মিলবে ফ্রি চিকিৎসা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তিন ভাইয়ের করোনা হাসপাতালে মিলবে ফ্রি চিকিৎসা

আদনান সাকিব, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৮ ২৩ জুন ২০২০   আপডেট: ১৭:২১ ২৪ জুলাই ২০২০

৭০ শয্যার করোনা হাসপাতাল

৭০ শয্যার করোনা হাসপাতাল

চট্টগ্রামে করোনার প্রকোপ যেন থামছেই না। আক্রান্তের সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। কেউ কেউ আইসিইউ কিংবা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন। তাই এসব ভোগান্তি দূর করতে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতাল তৈরি করেছেন তিন ভাই। যেখানে করোনা রোগীরা পাবেন ফ্রি চিকিৎসা। ৭০ শয্যার এ হাসপাতালটি নগরীর হালিশহরের বি-ব্লকের চৌধুরীপাড়ার একটি ছয়তলা ভবনে। যার নাম ‘আল মানাহিল নার্চার হাসপাতাল’।

তিন ভাই হলেন- মাওলানা হেলাল উদ্দিন জমির উদ্দিন, মাওলানা শিহাব উদ্দিন ও মাওলানা ফরিদ উদ্দিন বিন জমির। তারা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা আল্লামা জমির উদ্দিন নানুপুরীর ছেলে।

হাসপাতাল করা ছাড়াও এরইমধ্যে তারা চট্টগ্রামে করোনা বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুইশর বেশি দাফন করেছেন। আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও রয়েছে এ তিন ভাইয়ের।

তিন ভাইয়ের করোনা হাসপাতাল

ছয়তলা বিশিষ্ট হাসপাতালটির নিচ তলায় থাকছে রিসেপশন, জরুরি বিভাগ ও অবজারভেশন ওয়ার্ড। বাকি পাঁচ তলায় বসানো হয়েছে ৭০টি শয্যা। হাসপাতালের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ। অক্সিজেন লাইন বসানোর কাজও শেষ পর্যায়ে। এছাড়া ছয়জন চিকিৎসককে প্রস্তুত করা হয়েছে। আরো কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেডও বসানো হয়েছে। এর মধ্যে থাকছে পাঁচটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা। ছয়তলা ভবনজুড়েই রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম। চলতি সপ্তাহের শেষে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল ভবনের মালিক নাসরিন আক্তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি স্থানীয়দের দাতব্য সেবা দিতে অনেক আগে ভবনটি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু প্রবাসে থাকায় ভবনে হাসপাতাল তৈরিতে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

আল মানাহিল নার্চার হাসপাতালের পরিচালক মাওলানা হেলাল উদ্দিন জমির উদ্দিন বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। পরে অ্যাম্বুলেন্সে কিংবা পথেই মারা যাচ্ছেন। তাই তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের এ উদ্যোগ।

তিনি বলেন, এখানে একটি আইসিইউ সেটআপ করতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা করে খরচ হয়েছে। বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরো পাঁচটি আইসিইউ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

১৬ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের হাসপাতালে এক ব্যক্তি মারা যান। কিন্তু মরদেহ রেখে পালিয়ে যান স্বজনরা। পরে এ তিন ভাই তার দাফন করেন। এখন পর্যন্ত ২১১ জনের দাফন করেন তারা। এছাড়া নিজেরাই জানাজার ইমামতি করছেন। তবে দাফরের কাজে আরো ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবক তাদের সঙ্গে রয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/