ওপরে মৃত্যুর যম!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ওপরে মৃত্যুর যম!

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৩ ১১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২১:৩৮ ১১ মার্চ ২০২০

ছাদের সঙ্গে মেঝেতে বেশ কয়েকটি বাঁশ দাঁড় করে রাখা হয়েছে।

ছাদের সঙ্গে মেঝেতে বেশ কয়েকটি বাঁশ দাঁড় করে রাখা হয়েছে।

প্রায় দেড় মাস ধরে ভবনের সহযোগী পিলার হিসেবে ছাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাঁশ মেঝেতে দাঁড় করে রাখা হয়েছে। সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বাঁশ দাঁড় করানোর পক্ষে সাফাই গাইলেন ঠিকাদার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, স্থানটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্সটিতে সুস্থতার আশায় সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। আর রোগীর স্বজনরা বলছেন, ওপরে মৃত্যুর যম রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৫ সালে নির্মাণ করা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এতে হাসপাতালের ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক স্থানে পানিও পড়ে। এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় আরেক তলা উন্নীত করা হচ্ছে। নিচের তলায় করুণ দশায় উপরের তলার উন্নয়ন কতটুকু নিরাপদ হবে?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য বিভাগের এইচইডি (হেল্খ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট)। ১০০ শয্যার পাঁচতলা ভবনসহ পুরোনো দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবনটি দোতলায় উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া তিনতলা ভবনটি চতুর্থ তলায় উন্নীত হচ্ছে। তাছাড়া দুটি কোয়ার্টার একতলায় উন্নীত হচ্ছে। এসব কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডিং কর্পোরেশন। গত চার মাস ধরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নের কাজ করছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ বলেন, হাসপাতালের তিনতলা ভবনের ওপরে থাকা জলছাদ তুলে সেখানে টাইলস করা হবে। আর ভবনটি চারতলা হবে। কাজের সময় রোগী ও ছাদের সুবিধার্থে বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। কাজ শেষে খুঁটি সরিয়ে নেয়া হবে।

তবে ঘটনাস্থলে দেখা গেল তিনতলা ভবনের ওপর ঠিকই উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। কিন্তু তৃতীয়তলার বারান্দা, মহিলা ওয়ার্ড ও শিশু ওয়ার্ডের মাঝামাঝি স্থানে বেশ কিছু বাঁশের খুঁটি ছাদের ধস রোধে দাঁড় করানো হয়েছে। প্রায় দেড় মাস যাবত এভাবে বাঁশের খুঁটি দিয়ে রাখা হয়েছে। 

উদ্বিগ্ন রোগীদের স্বজনরা জানান, তিলতলার ছাদের করুণ দশা। চতুর্থতলা নির্মাণ হলেই রোগীদের অবস্থা বেহাল হবে। যেকোনো সময় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে পারে। ওপরে মৃত্যুর যম রেখে রোগীরা সুস্থতার আশায় কি করে থাকবে?

বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, তিনতলা ভবনের ওপরে থাকা জল ছাদ তুলে ফেলা হচ্ছে। তাই ছাদের ওপর চাপ ও শব্দ রোধে প্রতিরক্ষা হিসেবে বাঁশের খুঁটি দেয়া হয়েছে।

বিপদের শঙ্কার কথা তুলে ধরতেই তিনি বলেন, বিষয়টিকে অন্যভাবে নেবেন না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা, মোরশেদ আলম বলেন, দেড় মাস ধরে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। কাজ শেষে সরানো হবে। সাময়িক সময়ের জন্য রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তবে উদ্বিগ্নের কিছু নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ