নেই প্রেমপত্র, হারিয়ে গেছে ডাকপিয়নের হাকডাক
15-august

ঢাকা, সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২,   ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯,   ০৯ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

নেই প্রেমপত্র, হারিয়ে গেছে ডাকপিয়নের হাকডাক

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৪১ ৩০ জুন ২০২২  

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

একসময় ডাকপিয়ন ছিল মানুষের একমাত্র তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম। আর দুজন মানব-মানবীর প্রেমের কথা প্রবাহ চলত প্রেমপত্রের মাধ্যমে। তবে বর্তমানে মানুষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করছেন। প্রেমের মধুর কথা বিনিময় হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষুদেবার্তায়। ফলে, হারিয়ে গেছে ডাকপিয়নের ডাকাডাকি। আজকাল হারিয়ে গেছে প্রেমপত্রও।

এখন কম্পিউটার আর মোবাইলের যুগ। মানুষ যন্ত্রের মাধ্যমে সেকেন্ডের মধ্যে তার প্রিয়জনকে পত্র লিখে পাঠাতে পারছেন। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারিসহ সব ধরনের কার্যক্রম কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে করে থাকেন। বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়।

এইতো এক দশক আগেও ডাক বিভাগ ছাড়া পণ্য পরিবহন অসম্ভব ছিল। দেশের অভ্যন্তরীণসহ বিদেশেও এই মাধ্যমে যোগাযোগ করা হতো। দেশের অভ্যন্তরে চিঠি পৌঁছাতে ৩/৪ দিন কিংবা এক সপ্তাহ সময় লেগে যেত। প্রিয়জনরা প্রিয়জনদের খবর পেতে ডাকপিয়নের অপেক্ষায় বসে থাকত। এখন যেমন মানুষ বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে পরিচিত। আগের দিনে মানুষ নিজ নিজ এলাকার ডাকপিয়নের সঙ্গে পরিচিত হতো।

তখনকার সময় একজন ডাক হকারের দায়িত্ব ছিল অনেক। তাদের কাঁধে চাপা থাকতো গুরু দায়িত্ব। মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটাতেন তারা। সকাল হলে চিঠির বস্তা কাঁধে নিয়ে ছুটে যেতেন দ্বারে দ্বারে। ওসব চিঠিপত্রে থাকতো প্রতিটি মানুষের দুঃখ, কষ্ট, আহাজারি। আবার বয়ে আসতো সুখ আর আনন্দের বার্তা। 

যুবক-যুবতিরাও তাদের প্রিয় মানুষের হাতের লেখা পত্রের জন্য প্রহর গুণত। প্রতিটি মানুষ তাদের পোস্ট অফিসের পিয়নের নাম জানতেন এবং যেখানেই তাদের সঙ্গে দেখা হতো, জিজ্ঞাসা করতেন, তার নামে কোনো চিঠিপত্র আছে কিনা। 

একসময় পোস্ট অফিসগুলোতে ছিল মানুষের সমাগম। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সবাই ছিল পোস্ট অফিসমুখী। কেউ চিঠি পাঠাতেন আবার নতুন ডাকের অপেক্ষায় অফিসে বসে থাকতেন।

আগের দিনের তথ্য প্রবাহের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে দেখা যাবে, বর্তমান যুগের প্রযুক্তি রাতদিন তফাৎ। গত দুই-তিন দশক আগে মোবাইল ফোন ছিল না। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। ডাকের মাধ্যমে সবাই সব খবরাখবর নিত। 

বিজ্ঞান আমাদের অনেক এগিয়ে দিয়েছে। নিত্য নতুন সব প্রযুক্তি। সকলের পকেটে মোবাইলফোন। নিমিষেই প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে হৃদয়ের কথা। বিজ্ঞান আমাদের শ্রম বাচিয়েছে। খরচ বাচিয়েছে। এবং বাচিয়েছে সময়৷ চিঠি বয়ে নিয়ে ডাকবক্সে ফেলতে হয় না। ভুল করে বারবার কেটে দিতে হয় না। অনেক নতুনত্ব সংযুক্ত হয়েছে আমাদের জীবনে। তবে চিঠির জবাবের আশায় পথ চেয়ে বসে থাকা সেই সময়টুকু আজ আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »