‘বিবাহিত’ প্রেমিকের বিয়ে প্রস্তাব, ‘না’ বলায় দগ্ধ হয়ে মরল তরুণী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

‘বিবাহিত’ প্রেমিকের বিয়ে প্রস্তাব, ‘না’ বলায় দগ্ধ হয়ে মরল তরুণী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:০২ ১৫ মে ২০২২   আপডেট: ০২:২৪ ১৫ মে ২০২২

অভিযুক্ত নুরুল আজিম (ডানে) ছবি: সংগৃহীত

অভিযুক্ত নুরুল আজিম (ডানে) ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কথিত প্রেমিকের ছোড়া এসিডে ঝলসে যাওয়া ইয়াসমিন আক্তার নামে এক তরুণী মারা গেছেন। ১০ দিনের চিকিৎসা শেষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে মারা যান তিনি। 

নিহত ইয়াসমিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ডিঙ্গেল লোংগা এলাকার আবুল বাশারের মেয়ে। 

অভিযুক্ত নুরুল আজিম রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের খন্তকাটা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। ঘটনার পর ঐ রাতেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব মিলকী বলেন, গত ৪ মে রাতে কথিত প্রেমিকের ছোড়া এসিডে দগ্ধ হন ইয়াসমিন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় পুলিশ। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান।

ওসি আরো বলেন, সেদিন ঘটনার পর রাতেই অভিযুক্ত আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ ঘটনায় আজিমসহ অজ্ঞাতনামা আরো একজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ইয়াসমিনের ভাই। এসিড মামলার সঙ্গে এখন হত্যা মামলার আসামি হবেন তারা। ইয়াসমিনের লাশ ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

ইয়াসমিনের বড় ভাই ও মামলার বাদী মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, আমার এক ভাতিজিকে খন্তকাটা গ্রামে বিয়ে দিয়েছিলাম। মাঝেমধ্যে আজিমের অটোরিকশায় আমার ভাতিজি বাবার বাড়ি আসতো। সেই সুযোগে ইয়াসমিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আজিম। একপর্যায়ে ইয়াসমিন জানতে পারে আজিম বিবাহিত। তার দুটি সন্তান রয়েছে। তাই আজিমকে সে এড়িয়ে চলতে শুরু করে এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানায়। এর মধ্যে আজিমের মা ঘরে বিয়ের প্রস্তাবও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আজিম বিবাহিত হওয়ায় আমরা তাতে রাজি হইনি। তাই আজিম ক্ষিপ্ত হয়ে জানালা দিয়ে ইয়াসমিনকে ডেকে তার মুখে ও শরীরে এসিড ছুড়ে মারেন। এতে ইয়াসমিনের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানান চিকিৎসকরা।

আবু তাহের আরো বলেন, আমরা দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট ইয়াসমিন। সে সেলিমা কাদের চৌধুরী কলেজে পড়াশোনা করতো। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে ছুটিতে এসেছিলাম বোনকে বিয়ে দেব বলে। কিন্তু তার আগেই আমার বোনকে হত্যা করা হলো।

মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে ইয়াসমিনের মা গুলবানু বলেন, আমার মেয়ে খুব যন্ত্রণা ভোগ করে কষ্ট পেয়ে মরেছে। বাড়িতে আমার মেয়ের কক্ষে এখনো তার শরীর থেকে খসে যাওয়া চামড়া ছড়িয়ে আছে। আজিমের কারণে আমার মেয়েকে আজ মরতে হলো। আমি তার ফাঁসি চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »