দেশের একাধিক অঞ্চল গ্রীষ্মেও কেন কুয়াশাচ্ছন্ন?

ঢাকা, শনিবার   ২১ মে ২০২২,   ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

দেশের একাধিক অঞ্চল গ্রীষ্মেও কেন কুয়াশাচ্ছন্ন?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৪ ১৪ মে ২০২২  

আবহাওয়াবিদরা অবশ্য একে কুয়াশা বলতে চাইছেন না, বলছেন `কুয়াশাসদৃশ`।

আবহাওয়াবিদরা অবশ্য একে কুয়াশা বলতে চাইছেন না, বলছেন `কুয়াশাসদৃশ`।

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই কুয়াশার ছবি পোষ্ট করছেন। গ্রীষ্মের সকালে এ ধরনের কুয়াশা দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকেই কুয়াশা সম্পর্কে জানাচ্ছেন। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সাম্প্রতি নরসিংদী, গাইবান্ধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী জেলায় ঘণ কুয়াশার দেখা মিলছে। খোলা জায়গায়, ধানক্ষেত ও মহাসড়কে এমন কুয়াশা বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও কুয়াশা দূর হচ্ছে না। 

কিন্তু এখন দেশের এত জায়গায় অসময়ে কুয়াশার কারণ কি?

আবহাওয়াবিদরা অবশ্য একে কুয়াশা বলতে চাইছেন না। বলছেন 'কুয়াশাসদৃশ'। আবহাওয়াবিদ এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম গণমাধ্যমে বলছেন, ‘এই কুয়াশার কারণ দক্ষিণা বাতাস আর অল্প বৃষ্টির সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি প্রক্রিয়া। সমুদ্র থেকে দক্ষিণা বাতাস আসছে, যে বাতাসে আর্দ্রতা আছে। আবার গত কয়েকদিন ধরে অল্প অল্প বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি মাটিতে কিছুটা আর্দ্রতা রেখে যাচ্ছে যেটা তাড়াতাড়ি বাষ্প হচ্ছে কারণ রাতে অনেক তাপমাত্রা থাকছে। আবার সকালে এসে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। তখন এই যে বাষ্প সেটা ঘনীভূত হচ্ছে সাথে ধূলিকণা থাকছে। এটা কুয়াশার মতো। বেশি বৃষ্টি হলে মাটি পুরো ঠাণ্ডা হতো যেটা তাড়াতাড়ি বাষ্পীভূত হতো না। এমনটা সবসময় ঘটে না, মাঝে মাঝে হয়।

‘কুয়াশা আইসের (বরফের) একটা অংশ।

এই কুয়াশা ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত থাকছে। সূর্য ওঠার সাথে সাথে এই কুয়াশা মিলিয়ে যায়। 

কুয়াশা কিভাবে সৃষ্টি হয়?

কুয়াশাকে আবহাওয়াবিদরা 'লো ক্লাউড' বলে বর্ণনা করে থাকেন। শীতের সময় তাপমাত্রা কম থাকে এবং মাটিতে থাকা আদ্রতা উপরে উঠে গিয়ে কুয়াশা তৈরি করে।

এছাড়া ‘অ্যাডভেকশন ফগ’ বা মাটির তুলনায় বাতাস উষ্ণ এবং আদ্রতা বেশি থাকার কারণে যে কুয়াশা তৈরি হয়ে ভেসে বেড়ায়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহ আলম গণমাধ্যমে বলেন, ‘কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আদ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী থাকে। তবে এবার রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আগেই কুয়াশা তৈরি হচ্ছে। আর বাতাস কম থাকার কারণে কুয়াশা সরে যেতে পারছে না।

তিনি বলেন, ‘কুয়াশা আইসের (বরফের) একটা অংশ। এটা আমাদের দেশে ছোট থাকে, অন্যান্য দেশে তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে সেটা বড় আকার ধারণ করে ঝড়ে পড়ে, যাকে স্নো বলে। আমাদের দেশে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে বলে স্নো হয় না, তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টির মতো ছোট ছোট ফোটা হয়ে ঝড়ে পড়ে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনেও কুয়াশা তৈরি হয়। এশিয়াতে বাংলাদেশ এবং ভারতে ঘন কুয়াশা বেশি হয়। পাকিস্তানে কুয়াশা হলেও ঘন কুয়াশা কম হয়।’

বাংলাদেশে ঘন কুয়াশার কারণ কী?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন গনমাধ্যমকে বলেন, ‘পৌষ মাসে বা পৌষ মাসের শেষে কুয়াশা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ঘন কুয়াশা তৈরির পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের মতো হয় কিন্তু নিচের মাটি ঠাণ্ডা থাকার কারণে এটি উপরে ওঠে না। এর সাথে যোগ হয় ধুলা এবং গাড়ির ধোঁয়া।’

ঢাকা দূষণের শহর হওয়ার কারণে এখানে ধুলা এবং ধোঁয়ার আধিক্য থাকে। যার কারণে কুয়াশাও ঘন হয়। এছাড়া যেখানে তাপমাত্রার উঠানামা বেশি থাকে সেখানেই কুয়াশা তৈরির সুযোগ বেশি থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »