ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের কাজ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২,   ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের কাজ

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২২ ১৪ মে ২০২২  

দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি তেল পরিবহনের পাইপলাইন নির্মাণের কাজ- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি তেল পরিবহনের পাইপলাইন নির্মাণের কাজ- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে পাইপলাইনে সরাসরি জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। দেশের অভ্যন্তরে সরাসরি জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রথম এ প্রকল্পের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাকি অর্ধেক চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। দেশের মোট জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় নৌপথে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রায় ২০০ কোস্টাল ট্যাঙ্কার নিয়োজিত। 

অন্যদিকে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে বাড়ছে জ্বালানি তেলের চাহিদা। তবে অদূর ভবিষ্যতে চাহিদার বিপরীতে নৌপথে দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে না। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে প্রায় নাব্যতা সঙ্কট দেখা দেয়। এতে স্বাভাবিক জ্বালানি তেল পরিবহন বিঘ্নিত হয়।

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা বছরে প্রায় ৬০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ব্যবহার হয় ৪২ শতাংশ। যার পুরোটিই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নদীপথে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল, ফুতল্লা ও চাঁদপুর ডিপোতে নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে পরিবহন করা হয়। এতে খরচ হয় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত বিপণন কোম্পানিগুলো শ্যালো ড্রাফট ট্যাঙ্কারে উত্তরবঙ্গের বাঘাবাড়ি, চিলমারী ও সাচনা বাজার ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠায়। নৌপথে জ্বালানি তেল পরিবহনে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। অবরোধ, ধর্মঘটের মতো কর্মসূচিতে ব্যাহত হয় জরুরি এ জ্বালানি পরিবহন।

এসব বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন এ প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব ক্ষতি থেকে বাঁচবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এর মাধ্যমে বছরে ২৭-৩০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পরিবহন করা সম্ভব হবে। যা পর্যায়ক্রমে ৫০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তিন হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিপিসি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ রয়েছে। এর মধ্যেই সব কাজ শেষ করে পাইপলাইন তেল পরিবহনের উপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পাইপলাইন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পাইপ দেশে আনা হয়েছে। অন্যান্য যন্ত্রপাতির ৮০ শতাংশও এসে পৌঁছেছে। ২০০ কিলোমিটার এলাকায় পাইপ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ কিলোমিটার এলাকায় শেষ হয়েছে পাইপ ওয়েল্ডিংয়ের কাজ। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরাসরি জ্বালানি তেল পরিবহনের লক্ষ্যে পাইপলাইন নির্মাণে ২০১৫ সালে ফিজিবল স্ট্যাডি শুরু করে বিপিসি। এরপর এতে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (ইআইএল)। ফিজিবল স্ট্যাডি শেষে ২০১৭ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ২০১৮ সালের অক্টোবরে দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। কয়েক দফায় ডিপিপি সংশোধন করে সেই ব্যয় দাঁড়ায় তিন হাজার ১৭১ কোটি ৮৫ লাখ টাকায়। যার বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ২৪১ দশমিক ২৮ কিলোমিটার পাইপলাইন। ভূগর্ভে স্থাপন করা এসব পাইপলাইনের ব্যাস থাকবে ১৬ ইঞ্চি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদানাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে আট দশমিক ২৯ কিলোমিটার পাইপলাইন। এসব পাইপলাইনের ব্যাস থাকবে ১০ ইঞ্চি। পতেঙ্গা থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ২২টি নদীর তলদেশ ছুঁয়ে যাবে এ পাইপলাইন। পুরো পাইপলাইনজুড়ে থাকবে ৯টি স্টেশন। কুমিল্লার বরুড়ায় স্থাপন হবে একটি ডিপো।

প্রকল্পটির পরিচালক প্রকৌশলী আমিনুল হক বলেন, নানা জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ। এটি বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি তেল পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তেল পরিবহন দ্রুত হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, নিরাপদে ও কম খরচে জ্বালানি তেল পরিবহনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়। আশা করছি যথাসময়ে কাজ শেষ হবে। পাইপলাইন চালু হলে রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

English HighlightsREAD MORE »