বিরোধীদলের তোপের মুখে শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী, থামছে না বিক্ষোভ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২,   ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বিরোধীদলের তোপের মুখে শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী, থামছে না বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৩ ১৩ মে ২০২২   আপডেট: ২০:০১ ১৩ মে ২০২২

ছবি: রনিল বিক্রমসিংহে

ছবি: রনিল বিক্রমসিংহে

জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের কাজ শুরু করছেন শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে তার নিয়োগও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও তার সহযোগীদের দায়ী করে তাদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

শুক্রবার (১৩ মে) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটি। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে এক মাসেরও বেশি সময় আগে তুমুল বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ এতদিন শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু গত সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার পর তা সহিংস হয়ে ওঠে। এতে ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যসহ অন্তত ৯ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০০ জন।

তুমুল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে গত সোমবারই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন গোতাবায়ার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপরও বিক্ষোভ থামেনি। বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকলে সরকারি বাসভবন থেকে পালিয়ে একটি সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয় রাজাপাকসে পরিবার।

সপ্তাহব্যাপী সহিংস সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিরোধী রাজনীতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। শুক্রবার সকালেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন বিক্রমাসিংহে।

আরো পড়ুন>> প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে আরব আমিরাতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

কিন্তু রাজধানী কলম্বো থেকে একচুলও নড়েনি বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বাসভবনের সামনে গত মাসে যে শিবির গড়ে উঠেছিল সেখানে এখনও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, গোতাবায়া পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। গোতাবায়ার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শত শত বিক্ষোভকারীর একজন চামালেগে শিভাকুমার।

শুক্রবার সকালে আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকদের ওপর যে হামলা হয়েছে তার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই লড়াই বন্ধ করব না।’ শিভাকুমার আরও বলেন, ‘তারা যাকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয় দিক, জনগণ মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।’

আরো পড়ুন>> ৯১ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

বিক্রমাসিংহের দায়িত্বগ্রহণেও আশাবাদী হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। লঙ্কানদের মধ্যে অবিশ্বাস ও হতাশা। গত কয়েক বছর ধরেই জনগণের মধ্যে কৌশলী রাজনীতিক বিক্রমাসিংহের জনপ্রিয়তা তলানিতে।

গত জাতীয় নির্বাচনে তার এক সময়ের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি অনেক কষ্টে একটিমাত্র আসনে জয়ী হয়েছে। পার্লামেন্টে তিনিই একমাত্র দলীয় প্রতিনিধি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজাপাকসে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তার এ দুরবস্থা। অনেকের বিশ্বাস, ২০১৫ সালে রাজাপাকসে পরিবার ক্ষমতাচ্যুত হলে তাদের রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করেন বিক্রমাসিংহে। গোতাবায়ার পদত্যাগের দাবিকে এড়িয়ে যেতেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচকদের সন্দেহ।

আরো পড়ুন>> নারীকে ধর্ষণের পর খুন, খুনের পর ফের ধর্ষণ!

জনগণ চাইছে ব্যর্থ রাজনীতিবিদদের বিদায় ও বিচার। কেবল প্রেসিডেন্ট নয়, সন্দেহজনক ভূমিকার কারণে রনিল বিক্রমাসিংহের বাড়ির সামনেও প্রতিবাদ করেছিল তারা।

জোট সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্যদিয়ে রনিল বিক্রমাসিংহকে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভাজনও দূর করতে হবে।

৭৩ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ অর্থনৈতিকভাবে উদার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে শ্রীলংকার জন্য অর্থ ছাড়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী

English HighlightsREAD MORE »