জড়িয়ে ধরা ছবিই ‘কাল’ হলো ছাত্রীর, ভয় দেখিয়ে ঘনিষ্ঠ হতেন প্রভাষক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

জড়িয়ে ধরা ছবিই ‘কাল’ হলো ছাত্রীর, ভয় দেখিয়ে ঘনিষ্ঠ হতেন প্রভাষক

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৩ ১৩ মে ২০২২  

অভিযুক্ত মুরাদুজ্জামান মুকুল

অভিযুক্ত মুরাদুজ্জামান মুকুল

দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া বাসায় থাকছিলেন ৪৮ বছর বয়সী মুরাদুজ্জামান মুকুল। পেশায় একজন প্রভাষক। স্ত্রীও স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বাড়িওয়ালা দম্পতিও চাকরিজীবী। মা-বাবা চাকরিজীবী হওয়ায় বাসায় একাই থাকতেন দশম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে। মুকুলও একাই সময় কাটাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই বাড়িওয়ালাও মেয়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন মুকুল। তবে বাড়িওয়ালার মেয়ের প্রতি মুকুলের কুনজর ছিল।

সম্প্রতি সুযোগমতো মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে কিছু ছবিও তুলে রাখেন ৪৮ বছর বয়সী এ প্রভাষক। আর এসব ছবিই কাল হলো বাড়িওয়ালার মেয়ের। বাসায় কেউ না থাকায় মেয়েটিকে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন মুকুল। মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন আপত্তিকর দৃশ্যও। এরপর ছবি আর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ হন। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন মুকুল।

ঘটনাটি বগুড়ার ধুনটের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের পশ্চিম ভরণশাহী এলাকা থেকে মুকুলকে গ্রেফতার করা হলেও শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মুকুল ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক। 

জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে পশ্চিম ভরণশাহী এলাকায় পরিবার নিয়ে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন প্রভাষক মুকুল। মেয়েটির বাবা-মা চাকরিজীবী। এছাড়া মুকুলের স্ত্রীও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ কারণে সবসময় বাসায় থাকতেন না স্ত্রী। এ সুযোগে বাড়িওয়ালার মেয়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন মুকুল। সম্প্রতি সুযোগমতো মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে কিছু ছবিও তুলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে ৩ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মেয়েটিকে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের কিছু আপত্তিকর দৃশ্যও মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন এ প্রভাষক। পরে আপত্তিকর ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ হন মুকুল।

সর্বশেষ ১২ এপ্রিল সকালে নিজ বাসায় ওই মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মুকুল। ওই সময় মেয়েটির চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে আর বাসায় ফেরেননি। তবে ওই ঘটনার পরপরই মুকুলের পরিবারকে বাসা থেকে বের করে দেয় মেয়েটির পরিবার।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধুনট থানায় মুকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী মা। পরে সন্ধ্যায় মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি মুঠোফোনে ধারণ করার কথা স্বীকার করেন তিনি। ভুক্তভোগী মেয়েটির জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হবে। তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »