ছবিতে সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

ছবিতে সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১৩ মে ২০২২  

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

বলা হয় মহাকাশের অসীম শূন্যতায় যে রহস্য লুকিয়ে আছে, তার থেকে কিছু কম বিস্ময়কর নয় সমুদ্রের তলদেশের আশ্চর্য জগৎ। কতো যে বিচিত্র প্রাণী ও উদ্ভিদ লুকিয়ে রয়েছে এখানে তার ইয়ত্তা নেই। মাঝে মাঝে তেমনই দুর্লভ সব জীবের দেখা পেয়ে যান তারা, যারা নিয়মিত সমুদ্রের নিচে যান। 

এশিয়ান প্রাণী গবেষকদের ক্যামেরায় তোলা সমুদ্র তলদেশের বিস্ময়কর জগৎ নিয়ে আজকের ফটো ফিচার।  

যেন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৭০০ মিটার বা ১২ হাজার ফুট গভীরের একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ৷ সেখান থেকে ২৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তরল লাভা বেরিয়ে আসছে৷ কয়েক হাজার বছর ধরে সেখানে এই প্রক্রিয়া চলছে৷ মেক্সিকোর লা পাজ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের প্যাসকাদেরো অববাহিকায় এই বিস্ময়কর জায়গাটির অবস্থান৷

বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা ২০১৫ সালে প্যাসকাদেরো অববাহিকায় এই বিচিত্র জগতের খোঁজ পান৷ কয়েক মাস আগে সেখানে যান গবেষকদের একটি দল৷ তারা সমুদ্রের গভীরের সেই স্থানটির মানচিত্র তৈরি করেছেন, ভিডিও করেছেন আর সেই সঙ্গে বেশ কিছু পাথর আর প্রাণীর নমুনাও নিয়ে এসেছেন৷

ব্যাকটেরিয়ার আস্তানা

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

লাভা উদগীরণের কারণে এখানে সমুদ্রের তলদেশ উষ্ণ থাকে৷ সেখানকার মাটিতে আছে হাইড্রোজেন সালফাইড মিশ্রিত এক ধরণের রাসায়নিক, যা মানুষের জন্য বিষাক্ত৷ কিন্তু কিছু ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকা ও বংশ বিস্তারের জন্য এই পরিবেশই উপযুক্ত৷ ছবিতে কার্পেটের মতো যেই আস্তরণটি দেখা যাচ্ছে, এটি মূলত ব্যাকটেরিয়ারই একটি আস্তানা৷

তলদেশের বাসিন্দা

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন সামুদ্রিক কীট-পতঙ্গের আস্তানা রয়েছে আগ্নেয়গিরির নিষ্ক্রিয় জ্বালামুখ ঘিরে৷ তারই একটি এটি৷ ছবিতে লাল রংয়ের অমেরুদন্ডী কিছু অনুজীব দেখা যাচ্ছে৷ ১৯৭০ সালে গ্যালাপাগোস দ্বীপে প্রথম এদের সন্ধান মিলে৷ প্যাসকাদেরোর সব জায়গাতেই এমন প্রাণীর আধিক্য দেখে বিষ্মিত হয়েছেন গবেষকরা৷

ব্যাকটেরিয়ায় বেঁচে থাকা

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

এগুলো এক ধরনের সামুদ্রিক জীব, যার কোনো মুখ বা হজম প্রক্রিয়া নেই৷ তার বদলে কমলা-লাল রংয়ের পালকের মাধ্যমে তারা হাইড্রোজেন সালফাইড ও অক্সিজেন শুষে নেয়৷ সেটি তারা শরীরের একটি অংশে জমা করে, যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পরিপূর্ণ৷ তারপর সেই ব্যাকটেরিয়াই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়৷

নীলচে আভার কীট

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

প্যাসকাদেরোতে এমন সব প্রাণীর খোঁজও পেয়েছেন গবেষকরা, যাদের আগে কখনও দেখা যায়নি৷ যেমন, এই নীলচে আভার কীটটি৷ এর গায়ের রং আলোয় প্রতিফলিত হয়৷ গবেষকরা প্রাণীটিকে একটি আরেকটির সাথে মারামারি করতে দেখেছেন৷

মোজা পতঙ্গ

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

এই অদ্ভুত জীবটিকে মোজা পতঙ্গ হিসেবেও অভিহিত করেন বিজ্ঞানীরা৷ বাস্তবেও তাই৷ এটি অনেকটা থলের মতো, যার নিচের দিকে মুখ রয়েছে৷ সমুদ্রের তলের মাটি ধরে খুব ধীরে এটি চলাফেরা করে৷ সম্ভবত ঝিনুক খেয়ে জীবন ধারণ করে, কেননা, এর শরীরে ঝিনুকের ডিএনএ পাওয়া গেছে৷ যদিও কীভাবে খাবার শিকার করে, সেটি এখনো অজানা৷

ভিন্ন ধরনের প্রাণী

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

অগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ভেতরেই বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক জীব বাস করে৷ মাছ আর অক্টোপাসের মতো প্রাণী জলেই ঘুরে বেড়া্য়৷ কখনো কখনো ছবিতে থাকা এমন প্রাণীরও দেখা মেলে৷ দেখতে জেলি ফিশের মতো হলেও এরা ভিন্ন ধরনের এক বিষাক্ত প্রাণী৷

পানির নিচে হ্রদ

সমুদ্র তলের বিস্ময়কর জগৎ। ছবি: সংগৃহীত

প্রাণী আর পাথরের বাইরে প্যাসকাদেরোতে অনেক কিছুই দেখার আছে৷ যেমন, হ্রদের মতো এই জায়গাটি৷ গরম লাভা যখন পাথরের নিচে কিংবা গুহার ভেতরে আটকা পড়ে, তখন সেটি অনেকটা হ্রদের মতোই দেখায়৷

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »