নতুন কমিটিতেও মেটেনি বরিশাল বিএনপির কোন্দল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

নতুন কমিটিতেও মেটেনি বরিশাল বিএনপির কোন্দল

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৭ ১৩ মে ২০২২   আপডেট: ১৫:৪২ ১৩ মে ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি নতুন কমিটি গঠন করেও কোন্দল মেটাতে পারেনি। বরং তা বেড়েছে বিভিন্ন ধারা-উপধারায়। এতে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো দল, তেমনি নেতাকর্মীরা হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়।

গত বছরের ৩ নভেম্বর বরিশাল উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। শুরুতে নতুন কমিটিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব তৈরি হলেও এখন আর তা নেই। অল্পদিনেই তৃণমূলের মোহভঙ্গ ঘটে। অনেকেই বলছেন, বরিশালের প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারওয়ারকে ঠেকাতে গিয়ে সংগঠনটি আরো বিভাজনের মধ্যে পড়েছে। দলের প্রতিটি অঙ্গ-সংগঠনে এর প্রভাব পড়ছে।

নেতাকর্মীরা জানান, তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা থাকলেও বরিশাল উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির নেতারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কতদিনে তারা এ কাউন্সিল করতে পারবেন তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কেউ। এদিকে কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করতে এরমধ্যে নতুন নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে।

এরমধ্যে যুবদল নেতাদের একটি অংশ জেলা ও মহানগর বিএনপির অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কমিটিতে স্থান পেতে বিএনপির নেতারা এখন যুবদল নেতাদের কাছে তদবির করছেন।

বরিশাল মহানগর: মহানগর নতুন কমিটিতে মনিরুজ্জামান খান ফারুককে আহ্বায়ক, আলী হায়দার বাবুলকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মীর জাহিদুল কবিরকে সদস্য সচিব করা হয়। গত ২২ জানুয়ারি ৪২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেখানে আগের কমিটির ১৭১ সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা কেউ স্থান পাননি। পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির জন্য কেন্দ্রে নাম জমা দেওয়ার পর আপত্তি তোলেন বিলুপ্ত কমিটির অন্তত ৩১ জন নেতা। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এতে তারা বলেন, পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতা রাজপথে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেননি। ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয় নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করার বিষয়ে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তাদের আবেদন আমলে নেয়া হয়নি।

ঘোষিত কমিটিতে মজিবুর রহমান সারওয়ারের অনুসারী হিসেবে পরিচিতদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে গত ১১ মার্চ সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। দলের একটি অংশকে এভাবে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়ায় বিগত দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীও বাদ পড়েছেন, যা ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূল। এখন বাদ পড়া নেতারা আবার সংগঠিত হচ্ছেন। নিজেদের পাল্লা ভারী করতে নানাবিধ উদ্যোগ নিচ্ছেন। আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারা এতদিন প্রকাশ্যে পাল্টা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেননি। আড়াই মাস ধরে ঘরোয়াভাবে তাদের অবস্থান জানান দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নগরের ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর এসব কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যরাও যুক্ত হয়েছেন পদবঞ্চিতদের সঙ্গে।

বরিশালের বিভিন্ন কমিটিতে যুবদল নেতাদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মহানগর কমিটির সভাপতি পদে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারওয়ার। দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে তার শক্ত প্রভাব রয়েছে। তাকে কোণঠাসা করতে দলে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা একটি অংশ সক্রিয় হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হন। আর এই অংশের নেতৃত্বে ছিলেন এক সময়ে তারই অনুসারী হিসেবে পরিচিতরা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যুবদলের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমপ্রধান ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোনায়েম মুন্না।

তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দূর সম্পর্কের ভাগ্নে। এই পরিচয়কে ব্যবহার করে পুরো বরিশালের সব সাংগঠনিক, রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। যদিও তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠন এমনকি মূল দলের কমিটিতেও তিনি হস্তক্ষেপ করছেন।

বরিশাল উত্তর: বরিশালে বিএনপির তিন সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অচলাবস্থা বিরাজ করছে উত্তর জেলা শাখায়। ৫৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত তারা নিজেদের মধ্যে পরিচিতি সভাও করতে পারেননি। গঠিত এ কমিটির অনেক নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকেন। এলাকার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

কমিটির এক সিনিয়র সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তরের সদস্য সচিব স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন। আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহীদুল্লাহ থাকেন বরিশাল নগরে। এছাড়া তিনি বার্ধক্যজনিত সমস্যায়ও ভুগছেন। যে কারণে আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমে কোনো গতি নেই।

ঐ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান মাসে একটি ইফতার পার্টি করার জন্য আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে বারবার বলা হলেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। ইফতার পার্টি করতে পারলেও আহ্বায়ক কমিটির নেতারা একসঙ্গে বসতে পারতেন।

বরিশাল দক্ষিণ: দক্ষিণ জেলা শাখা বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান নান্টু এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে আকতার হোসেন মেবুলকে। ৪৭ সদস্যের কমিটিতে দক্ষিণের আওতায় থাকা ৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি-সম্পাদক মিলিয়ে মোট ১৬ জনের পদাধিকার বলে আহ্বায়ক কমিটিতে আসার কথা থাকলেও বাদ পড়েছেন মজিবুর রহমান সারওয়ারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। 

এ কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বৈরী সম্পর্কের কারণে দলীয় কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। এ কমিটিতেও বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয়দের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এইচএন

English HighlightsREAD MORE »