কামিনী: ফুলের জন্য নয়, শুধু পাতার জন্যই চাষ

ঢাকা, বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২,   ২২ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

কামিনী: ফুলের জন্য নয়, শুধু পাতার জন্যই চাষ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৭ ১০ মে ২০২২   আপডেট: ১৪:০৮ ১০ মে ২০২২

কামিনী। ছবি: সংগৃহীত

কামিনী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের যশোরসহ নানা এলাকার কৃষকরা কামিনী গাছের চাষ করছেন। তবে তারা ফুলের জন্য এ চাষ করছেন না, বরং তাদের মূল উদ্দেশ্য গাছের পাতাসহ ডাল বিক্রি করা।

যশোরের গদখালী এলাকা দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুলের জন্য বিখ্যাত এবং দেশের অন্যতম বড় ফুলের বাজারও সেখানে।গদখালী গ্রাম ও আশপাশের হাজার হাজার একর জমিতে বছরজুড়ে উৎপাদন হয় দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল, যার বার্ষিক বাজার মূল্য সেখানকার ব্যবসায়ীদের হিসেবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এই গ্রামের ফুল সারাদেশ তো বটেই, যাচ্ছে বিদেশেও।

গদখালীর ফুলের বাজার বা দোকানে দেখা যাবে, অগণিত কামিনি ডালের স্তুপ। ফুলের সাথেই সেখানে এগুলো বিক্রি হচ্ছে। যেখানে ফুল বেচাকেনা হয় সেখানেই দরকার হয় কামিনী ডালের। এটি ছাড়া ফুল ব্যবসা করা যায় না।

কৃষি কর্মকর্তারা, কৃষক, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ফুলের আরতদার, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ফুলের চেয়ে বেশি লাভ পাওয়া যায় কামিনীর পাতাসহ ডাল বিক্রি করে। এ কারণেই দেশের নানা জায়গার কৃষকরা এখন উদ্বুদ্ধ হয়েছে কামিনী চাষে। তারা সফলতাও পাচ্ছেন এটি চাষ করে।

কামিনী। ছবি: সংগৃহীত

বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠান, গাড়ি সাজানো, মঞ্চ সাজানোসহ নানা অনুষ্ঠান ও অফিস সাজসজ্জাতে ব্যবহার হচ্ছে কামিনী। সব কিছুতেই সাথে দরকার হয় কামিনীর পাতাসহ ডাল। একটি বাসা সাজাতে ফুলের চেয়েও বেশি দরকার হয় কামিনীর ডাল। এটা ছাড়া ফুলের সৌন্দর্য্যটাও ঠিক ফোটে না। এককথায় ফুলের যে কোনো তোড়া বানাতে বা ফুল দিয়ে যে কোনো ধরণের ডেকোরেশন কোথাও দরকার হলে সেখানে এই কামিনী পাতা লাগবেই।

ফুলের যত তোড়া হবে সবকিছুতেই লাগবে কামিনী পাতা। এ পাতাটি সহজে পচে না এবং সহজে নরম হয় না। সব মিলিয়ে এর বিশাল মার্কেট আছে। ফুলের দোকানগুলো মূলত এর ক্রেতা। তাই কৃষককেই বুঝতে হবে কোথায় কেমন চাহিদা।

ফুল যেমন গাছে রেখে দেওয়া যায় না, কামিনীর ডালের ক্ষেত্রে সে সমস্যা নেই। এটি পচবে না বা নষ্ট হবে না। তাই এটি চাষেও ঝুঁকি কম। গাছটিতে পানি দেয়া আর সার দেয়া ছাড়া বিশেষ কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। একবার গাছ লাগালে বছরের পর বছর ডাল পাওয়া যায়। একটি ডাল কাটলে সেখানে আরও কয়েকটি ডাল বের হয়।  এছাড়া কামিনী গাছে তুলনামূলক রোগ বালাই কম হয়ে থাকে বলে তেমন একটা খরচ হয় না বলে এটি লাভজনক।

কামিনী। ছবি: সংগৃহীত

ডাটা ও আঁটি হিসেবে কামিনীর ডাল বিক্রি হয়। একটি আঁটিতে ১০/১৫টি ডাল থাকে। বাজারভেদে মূল্য আলাদা হলেও গড়ে প্রতিটি ডাটা অন্তত দুই টাকা দরে বিক্রি করেন কৃষকরা। যেখানে যত চাহিদা সেখানে তত দাম। কোনো কোনো জায়গায় তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় এক একটি ডাল। সাধারণ যে ডালে পাতা বেশি সে ডালের তত বেশি দাম হয়ে থাকে।

কামিনীর কয়েকটা জাত আছে তবে তারা মোটা পাতার কামিনীর চাষ করেন কারণ এতে লাভ বেশি হয়। বছরে বিঘা প্রতি কমপক্ষে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। আর একবার চাষ করলে বছরের পর বছর গাছ থেকে ডাল পাওয়া যায়। 

গাছ রোপণ করা হলে এক বছর পর থেকেই গাছের ডাল বিক্রির জন্য কাটা যাবে। আবার গরমের সময় প্রতি দু মাস পরপর আর শীতের সময় সাড়ে তিন মাস পরপর কামিনীর ডাল কাটা যায়। তাই শিক্ষিত উদ্যোক্তাদের জন্য কামিনী চাষ সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি উদ্যোক্তারা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »