সেকাল-একালের মিরপুর বেনারসি পল্লী

ঢাকা, বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২,   ২১ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

সেকাল-একালের মিরপুর বেনারসি পল্লী

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৪ ১৭ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৯:০৫ ১৭ এপ্রিল ২০২২

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বেনারসি পল্লী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বেনারসি পল্লী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বেনারসি পল্লী। যেখানে বিক্রি হয় বেনারসি, কাতান, জামদানি ও দেশীয় তাতের তৈরি শাড়ি। বিয়ের শাড়ি কেনার জন্য ক্রেতাদের বেশ পছন্দের স্থান এটি। বেনারসি পল্লীর শাড়ি অনেকের কাছেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মিরপুরে এই বেনারসি পল্লী গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইতিহাস। 

বেনারসি পল্লী গড়ে ওঠার ইতিহাস 

মুক্তিযুদ্ধের কয়েক বছর আগে ভারতের বেনারস থেকে বেনারসি তাঁত সামগ্রী আমদানি করেন হারুন শেঠ নামে এক ব্যবসায়ী। তিনিই প্রথমে এ দেশে শুরু করেন বেনারসি শাড়ির ব্যবসা। তারই হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় বেনারসি পল্লীর। 

ধীরে ধীরে সুল্লিদা, বাব্বন শেঠ, কাজিম শেঠ, বেলাল আহমেদসহ অনেক বাঙালি ও অবাঙালি বেনারসি শিল্পের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। দেশ বিভাগের পর এ শিল্পের আরো প্রসার ঘটে। 

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বেনারসি পল্লী। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ভাসানটেকে একটি স্থায়ী বেনারসি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময়  দুই হাজার তাঁতি ও শাড়ি ব্যবসায়ীর থেকে তাঁত বোর্ডের নামে ১০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে সোনালী ব্যাংকে জমা করা হয়। কিন্তু তাঁতিরা স্থায়ী মার্কেটের দেখা পাননি। এরপরও এ পল্লীর জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হলে সেগুলোও বাস্তবায়িত হয়নি। এ জন্য স্বাধীনতার পর থেকে মিরপুর ১০ নম্বরে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী তাঁতিরা বাসার সামনে দোকান বানিয়ে বা ভাড়া নিয়ে বেনারসি পল্লী তৈরি করেন। 

আশির দশক থেকে এই পল্লী বিস্তার লাভ করে। ১৯৮৫ সালের দিকে ঢাকাবাসীর কাছে মিরপুরের বেনারসি শাড়ির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রিয়জনকে শাড়ি উপহার দেওয়ার জন্য বেনারসি পল্লীতে আসতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বেনারসি, কাতান, ঢাকাই মসলিন, ঢাকাই জামদানি, পিওর সিল্ক, মটকা সিল্ক ইত্যাদি শাড়ির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। 

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বেনারসি পল্লী। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের কনের জন্য লাল টুকটুকে শাড়ি ছাড়াও বিয়েতে আত্মীয়দের উপহার দেওয়ার জন্য এবং বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে পরার উপযোগী শাড়ি কেনার জন্যও ক্রেতারা বেনারসি পল্লীকে বেছে নেন। 

বর্তমানের বেনারসি পল্লী

বর্তমানের বেনারসি পল্লীতে দোকানের সংখ্যা একশরও ওপরে। দোকানের পাশেই রয়েছে শাড়ি তৈরির কিছু কারখানা। এতে বাঙালিসহ উর্দু ভাষাভাষীরা কাজ করেন। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বেনারসি পল্লী এখন বড় বড় শোরুম, বিদেশি ক্রেতা এবং দেশের বাইরেও শাড়ি রপ্তানি করছে। আগের তুলনায় এখানে কারখানার সংখ্যা কমলেও দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ শাড়ি মার্কেটগুলোর একটি বলে ভাবা হয়। 

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বেনারসি পল্লী। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানের বেনারসি পল্লীর এক-একটি দোকানে আছে আলোক ঝলমলে পরিবেশ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র। ক্রেতাদের বসার জন্য আরাম-কেদারাতো রয়েছেই। দোকানগুলোর কাচের অপর পাশে পুতুলের গায়ে পরানো জরি, চুমকি ও পাথরের কাজ করা চোখ ধাঁধানো সব শাড়ি। বিক্রেতারা চা কিংবা কোমল পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করে ক্রেতাদের। 

সাধারণত বিয়ের শাড়ি কেনার জন্যই ক্রেতারা এখানে বেশি আসেন। এ জন্য শীতকালে ও বিয়ের মৌসুমে বেচাবিক্রি বেশি হয়। আর মাত্র কয়েক দিন পরই মুসলমানদের প্রাণের উৎসব ঈদ। ঈদকে কেন্দ্র করে বিয়েও জমে বেশ। তাইতো জামদানি ও দেশি তাঁতের শাড়ি কিনতে আজকাল বেশ ক্রেতা জমে বেনারসি পল্লীতে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »