দয়ারামের পসারি : ব্রিটিশ আমলের সেই সম্ভ্রান্ত দোকান

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

দয়ারামের পসারি : ব্রিটিশ আমলের সেই সম্ভ্রান্ত দোকান

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৯ ২২ জানুয়ারি ২০২২  

আঠারো শতকের একটি দোকান। ছবি - সংগৃহীত

আঠারো শতকের একটি দোকান। ছবি - সংগৃহীত

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমল চলছে তখন। সে সময়ে বাংলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু বাজার গড়ে উঠল। বৈঠকখানা, শোভাবাজার,  বাগবাজার, কলুটোলা, জানবাজার, মেছুয়া, হাটখোলা এইসব বাজার নিয়ে রমরমা হয়েছে বাংলা ভাষাভাষীদের বাজারঘাট।

কলকাতায় বড়বাজারের অস্তিত্ব ছিল তখনও। আজকের বড়বাজার তখন ছিল ‘বুড়ো’ (শিবের নাম) বাজার। ব্যস্ত হাটে কেনাবেচা ভালোই চলত। তবে আজকের মতো ঝাঁ চকচকে এতটা সাজানো গোছানো ছিল না। সেকালেও বড়োবাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা মিলে থিকথিকে লোক থাকত। ছোটো ছোটো টানা গাড়ি বা গরুর গাড়িতে মালপত্র আসত। পণ্যবাহী গাড়িগুলোতে মশলা, তেল, কাপড়ের জোগানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা-নেওয়া হতো জীবিকার তাগিদে।

এই স্থানে নানা সম্প্রদায়ের মানুষ আসার পর আস্তে আস্তে অন্যান্য ব্যবসাও গড়ে উঠতে শুরু করল। গাছের নিচে কেউ বসে হুকা টানছে, রাস্তায় লংটি পরে পালোয়ান, হাটের মানুষজন, গরুর গাড়ি আর রাস্তার দুই পাশে বেশ কিছু দোকান। দোকানের সামনে ক্রেতাদের আনাগোনা।

সেকালের বড়বাজারে এমনই একটি দোকান প্রচলিত ছিল ‘দয়ারামের পসারি’ বলে। ওই সময় সাইনবোর্ড বস্তুটির প্রচলন ছিল না। দোকানে কোনো সাইনবোর্ড লাগানো থাকত না। শুধুমাত্র লোকমুখে নামেই পরিচিত হতো। ১৭৩৪ সালে দয়ারাম দাঁ বাঁকুড়া জেলার পৈতৃক ভিটে ছেড়ে কুলদেবতাকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারসহ কলকাতার দর্জিপাড়ায় এসে বসবাস শুরু করেন। তারপর বড়বাজার এলাকায় তিনি একটি মশলার দোকান দেন। পাইকারি কেনাকাটা এবং ক্রেতাদের সমাবেশে ক্রমে দোকানের পসার বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দোকানের শ্রীবৃদ্ধি হয়। সাধারণ দোকানের উপার্জন থেকে এক সম্ভ্রান্ত জায়গা আসে।

প্রভূত অবস্থার উন্নতির পর দয়ারামের নিজের বাড়িতে শুরু হয় দুর্গাপুজো। কয়েক প্রজন্ম পর সেই পুজো দেখতে স্বয়ং এসেছিলেন লর্ড ক্লাইভ। যেন বলা যায় আভিজাত্য আচার, অনুষ্ঠানে আর সুর সংগীতে বাড়ি সরগরম হয়ে উঠত।

দয়ারামের ছিল দুই ছেলে। পরবর্তীতে তার এক ছেলে রামনারায়ণ ওই দোকান থেকেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। ঈশ্বরের প্রতি রামনারায়ণের খুব ভক্তি ছিল, তাই তার ধার্মিকতা ও স্বভাব সবাইকে মুগ্ধ করত। দয়ারামের পসারি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কয়লার খনি ও পাটের ব্যবসাও পরবর্তী সময়ে শুরু হয়। এরপর ধর্মদাস দাঁর হাত ধরে এই ব্যবসা পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়।

সেই দোকান এখন আর নেই। দয়ারামের বংশধরেরা অন্য ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন। সেকালের এমন পসার অহেরিব গতিতে স্মৃতিভারে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »