কেমন ছিল রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজির প্রথম সাক্ষাৎ?

ঢাকা, শনিবার   ২১ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

কেমন ছিল রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজির প্রথম সাক্ষাৎ?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৪৩ ১৮ জানুয়ারি ২০২২  

রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজি। ছবি : সংগৃহীত

রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজি। ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে অহিংস পথে লড়তে লড়তেই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি চালু করেন অভিনব এক বিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয় শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষাতেই আবদ্ধ ছিল না। রান্নাবান্না, চাষাবাদ থেকে মলমূত্র পরিষ্কার – সবকিছুই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে করতেন। সেখানে ভৃত্যস্থানীয় কেউ ছিলেন না, সবাই সমান। ধনী-দরিদ্রের বিভাজন ছিল না।

এরই মধ্যে আলোচনার জন্য ব্রিটিশ সরকার ডেকে পাঠাল গান্ধিজিকে। গান্ধিজি ইংল্যান্ডে চললেন, উদ্দেশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সব কটি উপনিবেশের সমস্যা নিয়েই কথা বলা।

কিন্তু ছাত্রদের তিনি রেখে যাবেন কোথায়? ভারতেই পাঠানোর কথা ভাবলেন। প্রথমে তাদের রাখা হলো হরিদ্বারের গুরুকূল আশ্রমে। কিন্তু সেখানকার কঠোর জাতিভেদ ব্যবস্থা গান্ধিজির পছন্দ হলো না। তার মনে হলো, শান্তিনিকেতনই শিক্ষার্থীদের রাখার আদর্শ জায়গা। রবীন্দ্রনাথও রাজি। সে রকমই বন্দোবস্ত হলো। রবীন্দ্রনাথ চিঠি পাঠিয়ে গান্ধিকে জানালেন, ‘আপনার স্কিংকস স্কুলের ছাত্রদের আমার বিদ্যালয়ে রাখাটাই যে আপনি সবচেয়ে পছন্দ করেছেন তাতে সত্যিই আনন্দ পেলাম। এই প্রিয় ছাত্রদের এখানে আমাদের মধ্যে পেয়ে সে আনন্দ আজ আরো বেশি উপভোগ করছি।’

ইংল্যান্ডের কাজ মিটিয়ে গান্ধিজি এলেন ভারতবর্ষে। অসুস্থ গোপাল কৃষ্ণ গোখলের সঙ্গে দেখা করলেন। তারপর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধিকে নিয়ে এলেন শান্তিনিকেতনে। সেটা ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ। তাদের দুই ছেলে তখন স্কিংকস স্কুলের অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে শান্তিনিকেতনেই পড়াশোনা করছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তখন শিলাইদহে। খবর পেয়ে তিনি কলকাতা হয়ে ফিরে এলেন বোলপুর। কিন্তু এরই মধ্যে গোখলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ১৩২১ সনের ৮ ফাল্গুন গান্ধিজি রওনা দিলেন পুনরায়। রবীন্দ্রনাথ ফেরার দুদিন আগে।

২২ ফাল্গুন গান্ধিজি আবার শান্তিনিকেতনে এলেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার সেটাই প্রথম দেখা। অনেক আগে থেকেই অবশ্য একে অপরের গুণমুগ্ধ ছিলেন। গান্ধিজি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শান্তিনিকেতনে দৈনন্দিন সব কাজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে একসঙ্গে যাতে করেন। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বুঝতে স্বাবলম্বী হওয়া দরকার। এই কথা রবীন্দ্রনাথেরও পছন্দ হলো। সেবছর ১০ মার্চ থেকে তা চালু হলো শান্তিনিকেতনে। রান্না, জল তোলা, ঝাঁট দেয়া – সব কাজই সবাই মিলে করতেন। যদিও নানা কারণে এই প্রথা বেশি দিন চলেনি। তবে এখনও প্রত্যেক বছর ১০ মার্চ শান্তিনিকেতনের আশ্রমিকরা গান্ধিদিবস পালন করেন। সেদিন আশ্রমের যাবতীয় কাজ নিজেরাই করে থাকেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »